নেহাৎ বাজে কথা। একটা ছবি তুলতে কি ৪৩ বছর সময় লাগে নাকি। পিনহোল ক্যামেরায় তোলা হলেও তো এতটা সময় লাগার কথা নয়। যেখানে এখন সেকেণ্ডের কয়েক ভাগের মধ্যে ছবি তোলা হয়ে যায় ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে, সেখানে এই ছবি তুলতে ৪৩ বছর সময় লাগার কারণে কি? এরকম অজস্র প্রশ্ন মাথায় আসতেই পারে, অবশ্য আসাটাই স্বাভাবিক কারণ হাজার হলেও পৃথিবীর ছবি বলে কথা। সম্প্রতি নাসা প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ পৃথিবীর ছবি প্রকাশ করেছে, এবং এও জানিয়েছে যে ছবিটি তুলতে সময় লেগেছে ৪৩ বছর।
ডিপ স্পেস ক্লাইমেট অবজারভেটরিতে(ডিএসসিওভিআর) অবস্থিত ক্যামেরা মারফত এই ছবি তোলা হয়। ১৯৭২ সাল থেকেই মূলত ছবি তোলার কাজ শুরু হয়। মহাকাশ স্টেশন থেকে গোটা পৃথিবীর ছবি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে তুলতে হয়েছে মহাকাশ আলোকচিত্রীদের। এরপর সেই ছবিগুলোকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করা হয়। কিন্তু নাসার এই ছবিটির ক্ষেত্রে সেই একই সূত্র মানা হয়নি।
নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় নাসার বিজ্ঞানীরা পুরো পৃথিবীর ছবি তুলতে ব্যবহার করেছেন তিনটি পৃথক ছবি। এই তিনটি ছবি হলো আদতে তিনটি লেয়ার। আবার এই প্রতিটি লেয়ারেই পৃথিবীর পুরোটা বিদ্যমান। প্রত্যেকটি রং ধরার জন্য ক্যামেরাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দশটি করে ছবি তুলেছে। এরপর এই আলাদা আলাদা রংয়ের লেয়ারগুলোকে একত্রিত করে এক একটি লেয়ার তৈরি করা হয়েছে। সবশেষে ওই তিনটি লেয়ার একত্রিত করেই চূড়ান্ত ছবিটি পাওয়া যায়।
ছবিটি মূলত তোলা হয়েছিল চলতি বছরের ৬ জুলাই তারিখে এবং ছবিটির অধিকাংশ অঞ্চল জুড়েই আছে উত্তর এবং মধ্য আমেরিকা। নাসার আর্থ পলিক্রোমেটিক ক্যামেরা দিয়ে এই ছবি তোলা হয়েছে। এই ক্যামেরা ব্যবহার করার ফলে পৃথিবীর উপরিতলে যে নীল রংয়ের আভা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তা মূলত ক্যামেরার ত্রুটির কারণে। নাসার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ভবিষ্যতে পৃথিবীর যে ছবি তোলা হবে তাতে এই নীল আভা দেখা যাবে না।
এই ছবি অনেক প্রতিষ্ঠানের হাজার পরিশ্রম কমিয়ে দেবে। ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এনওএএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী পৃথিবীর উপর দিয়ে প্রবাহমান সৌরঝড় সম্পর্কে সহজেই এই ছবির কল্যাণে জানতে পারবে। শুধু তাই নয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নিখুত উপায়ে বের করার ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


