মাগুরানিউজ.কমঃ
আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, মাগুরা নিউজ জানাচ্ছে এমন কিছু তথ্য যা জেনে আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন, আপনি বলবেন…….. । সাথে থাকুন আর জানুন জানা-অজানা আপনার মাগুরাকে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।
১৪ তম পর্ব-
নীলকুঠি আর নীলকর এবং মহিলা কলেজ
ঐতিহাসিক মতে ১৭৭৭ সাল থেকে বাংলা প্রদেশে নীলের চাষ শুরু হয়। নীল চাষীরা সারাদেশে শুরু করে নীলের আবাদ এবং নীল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় নীলকুঠি।
১৮০৫ সালে টমাস টুইউডি নামক এক ইংরেজ মাগুরার পশ্চিম দিকে ইছাখাদা সংলগ্ন হাজরাপুরে নির্মাণ করেন নীলকুঠি এবং শুরু করেন নীলের চাষ। মোঘল আমলেই পেরিপ্লাস ও টলেমির বর্ণনায় ইছাখাদা অঞ্চলের জনবসতি ও ব্যবসা কেন্দ্রের বিবরণ পাওয়া যায়।
চতুর্দশ শতাব্দিতে গরীবশাহ দেওয়ানের মাগুরা অঞ্চলে উপস্থিতির বর্ণনা পাওয়া যায়। ১৭৮৯ সালে জে, ওয়েস্টল্যান্ড ছিলেন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তার লেখা “যশোর রিপোর্ট”-এ মাগুরা মহকুমার কিছু কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। এটাকেই একটা ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল বলা যায়। এই বর্ণনায় মাগুরা জেলার সীতারামের মহম্মদপুরের পর মাগুরার ইছাখাদা অঞ্চলের খ্যাতি দেখা যায়।
বর্তমান মহিলা কলেজ নির্মাণ করেন এ অঞ্চলের নীলকর সাহেবরা, দাতব্য চিকিৎসালয় হিসেবে। পরিত্যক্ত ভবনে ১৮৭৬ সালের দিকে সরকারি বালক বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমান সিভিল সার্জন বাসভবন প্রাঙ্গণে ছিল ইংরেজ আমলে সরকারি হাসপাতাল যা ১৯৬৮ সালে ঢাকা রোডে স্থানান্তরিত হয়। মাগুরার ডক্টরস কোয়ার্টার হসপিটালের বড় ডাক্তারের বাসভবনের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। পুরাতন হসপিটালের পশ্চিম পার্শ্বে ছিল খৃষ্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান ও ময়নাতদন্ত করার ঘর। যেটা ২০০০ সালের দিকে সদর হসপিটালের প্রাঙ্গণের উত্তরে স্থানান্তর করা হয়। আজকের জেলা পরিষদ মার্কেটের স্থানে ছিল ইংরেজ আমলে স্যানেটারি অফিস।


