মাগুরানিউজ.কমঃ
মুরুব্বিদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় ‘আমাদের আগে গোলা ভরা ধান ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল’ ইত্যাদি কথা। শস্যভাণ্ডারখ্যাত মাগুরা জেলায় ধানের গোলা প্রায় বিলুপ্তির পথে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো জাদুঘরে এই ধানের গোলা দেখতে হতে পারে। অথচ একসময় সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করতো কার কয়টি ধানের গোলা আছে। বর-কনে পাত্রস্থ করতেও ধানের গোলার খবর নিত বর-কনের পরিবারের লোকজন। যা এখন শুধুই কল্পকাহিনী।
অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমিতে এখন তৈরি হচ্ছে বসবাসের ঘরবাড়ি। হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত ও কৃষকের ঐতিহ্যবাহী গোলা। তবে এখনও মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুদ করে রাখার বাঁশ, বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর।
বর্তমানে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক কলের লাঙ্গল যেন উল্টে-পাল্টে দিয়েছে কৃষি অঞ্চলের চিত্র। গোলায় তোলার ধান আর তাদের থাকে না। গোলার পরিবর্তে কৃষকরা ধান রাখা শুরু করে বাঁশের তৈরি ক্ষুদ্রাকৃতি ডোলায়। বর্তমানে সংসারে যেটুকু খাদ্যের প্রয়োজন, তা কৃষকরা চটের বস্তা বা ব্যারেলভর্তি করে রাখছে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান-চাল। নব প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। এখন আধুনিক গুদামঘর ধান-চাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলাঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধু কি তাই? কাঠের নাঙ্গল, ঢেকি, কাঠের উলকিসহ বিভিন্ন প্রাচীন এসব সমগ্রী বিলুপ্তির পথে। সেই সাথে গ্রাম বাংলার ঐহিত্য হিসেবে ধনীদের বাড়িতে থাকতো কাচারি ঘর বা বৈঠক খানা। সেই ঐহিত্য গ্রাম বাংলা থেকে এখন হারিয়ে যাচ্ছে।


