মাগুরানিউজ.কম:
গুলিবিদ্ধ শিশু সূরাইয়া ও মায়ের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মাগুরা সদর হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সম্মাননা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এই সম্মাননা দেয়া হয়।
সম্মাননা পেলেন মাগুরার ৬ চিকিৎসক। সম্মাননা প্রাপ্ত চিকিৎসকেরা হলেন মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এফ বি এম আব্দুল লতিফ, কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল ডা. শফিউর রহমান, কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক ডা. চিত্ত রঞ্জন রায়, কনসালট্যান্ট শিশু বিভাগ ডা. জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, কনসালট্যান্ট গাইনি ডা. শামসুন নাহার, এমও অ্যানেসথেসিয়া ডা. সৌমেন সাহা ও স্টাফ নার্স মোছাম্মাৎ সালমা কাজী।
এ সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ডাক্তারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ডাক্তারদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারনে এটা সম্ভব হয়েছে। ভাল কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। তাহলে ডাক্তাররা ভাল কাজ করতে উৎসাহ পাবে। এভাবেই সমাজের বিকাশ সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী গুলিবিদ্ধ শিশু সূরাইয়া ও মায়ের চিকিৎসায় মাগুরা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের চিকিৎসার অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনেন।
এ সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল (ডিএমসি)-এর পরিচালক ব্রি. জে. মো. মিজানুর রহমান, নিউনেটোলজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ হোসেন মোল্লা, মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. এফ বি এম আব্দুল লতিফ, মাগুড়া সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মো. শফিউর রহমানসহ মোট ১৪ জনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মাগুরা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জরুরিভিত্তিতে গুলিবিদ্ধ নাজমা বেগমকে অপারেশন করা হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাজমা বেগমের শরীর থেকে গুলি ও গুলিবিদ্ধ শিশুকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। ঝুঁকি জেনেও অস্ত্রোপচারে অংশ নেন কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল ডা. শফিউর রহমান, কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক ডা. চিত্ত রঞ্জন রায়, কনসালট্যান্ট শিশু বিভাগ ডা. জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, কনসালট্যান্ট গাইনি ডা. শামসুন নাহার, এমও অ্যানেসথেসিয়া ডা. সৌমেন সাহা ও স্টাফ নার্স মোছাম্মাৎ সালমা কাজী।
২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার সময় গর্ভবতী নাজমা খাতুন গুলিবিদ্ধ হন। তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিন রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশুটির জন্ম হয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫ জুলাই ঢাকায় আনা হয়।


