আজকের পত্রিকাtitle_li=শ্রীপুর মাগুরায় সড়কে মৃত্যুফাঁদ: দায়িত্বশীলদের টনক নড়বে কি?

মাগুরায় সড়কে মৃত্যুফাঁদ: দায়িত্বশীলদের টনক নড়বে কি?

মাগুরানিউজ.কমঃ 

mnবিশেষ প্রতিবেদক-

এমনিতেই রাস্তাঘাটে নেই জীবনের নিরাপত্তা। গাড়িচালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে যাত্রীদের অনেকটাই প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়। তার ওপর যদি সেই সড়কপথই হয় মৃত্যুফাঁদ, তাহলে?

মাগুরার বেশিরভাগ সড়ক-মহাসড়ক যেন সত্যিকার অর্থেই পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। সড়ক- মহাসড়ক যেন কৃষকের চাতালে পরিণত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ সড়ক এখন রবিশস্য মাড়াইয়ের আঙিনা হিসাবে ব্যবহার করছেন সড়কের আশপাশের লোকজন। এতে সড়কগুলোয় যান চলাচল চরম ঝঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দূর্ঘটনা।

প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের চোখের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও কেউ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ। এতে দিন দিন বেড়েই চলেছে জনদূর্ভোগ ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় এখন রবিশস্য কর্তনের পর মাড়াইয়ের ভরা মৌসুম চলছে। কৃষক মাঠ থেকে রবিশস্য মসুর, গম, সরিষা, ধনিয়া, তিষি, ছোলা, খেসারি ও মটরসহ বিভিন্ন শস্য কর্তন করে মাড়াই করছেন।

মাড়াই কাজে বাড়ির আশপাশের পাঁকা সড়কই কৃষকদের প্রথম পছন্দ। পিঁচঢালা সড়কে বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ফসল দ্রুত মাড়াই হয় বলে এ কাজে সড়ক ব্যবহার করছেন তারা। এতে সড়কগুলো যানচলাচল ও পথচারীদের জন্য বিপদজ্জনক হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দূর্ঘটনা।

মাগুরায় চারটি উপজেলার ৩৬ ইউনিয়নে ৭০০টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের কমবেশী সব পাঁকা সড়ক এখন রবিশস্য মাড়াইয়ের আঙিনা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়ক জুড়ে মসুর গম ও ধনিয়ার গাছ বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, বাড়ির আঙিনায় রবিশস্য মাড়াই করতে শ্রমিকের ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ। কিন্তু পাঁকা সড়কে শস্য বিছিয়ে দিলে একদিনে মাড়াই হয়ে যায় এতে শ্রম ও অর্থ দুইই সাশ্রয় হয়।

শ্রীপুর, শালিখা, মহম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়ক ঘুরে দেখা গেছে শস্য মাড়াইয়ের একই চিত্র। নারী-পুরুষ ও শিশুরা সবাই মিলে ব্যস্ত সড়কে শস্য মাড়াইয়ের কাজ করছেন। বিশেষ করে গম ও মসুরের পিচ্ছিল কান্ড সড়কজুড়ে বিছিয়ে রাখায় পথচারী ও যানচলাচলে বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। ঘটেছে হতাহতের ঘটনাও ।

বিভিন্ন সড়কের যাত্রিবাহী গ্রামবাংলার চালকেরা বলেন, ‘ সড়কে গম ও মসুর ব্যাপক ভাবে মাড়াই হচ্ছে। এতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে ব্রেক ফেল হয়ে দূর্ঘটনা ঘটছে। একদিকে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে অন্যদিকে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে গাছের কান্ড-পাতা প্রবেশ করে অকেজো হয়ে পড়ছে। বিষয়টি সবার চোখের সামনে ঘটলেও কেউ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে তিনি জানান।’

শ্রীপুরের কাদিরপাড়ার কৃষক জয়নাল সড়কের ওপর ধান স্তুপ করে রাখছিলেন৷ তিনি জানান, আগের মতো বাড়ির সামনে মানুষজন আর ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখে না৷ ঘরবাড়ি করে ফেলেছে৷ ধান মাড়াইয়ের জায়গায় অভাব৷ তাই মানুষ নিরুপায় হয়ে সড়কই ব্যবহার করছেন৷ তিনি একাই নন, তার মতো এলাকার সব কৃষক এখন সড়কের ওপর ধান মাড়াই করেন৷

গাংনালিয়া গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম, সর্দারপাড়ার কৃষক বাবুল ও রহমান বলেন, মানুষের উপকারের জন্য সরকার সড়ক তৈরী করে দিয়েছেন৷ সারা বছর সড়ক দিয়ে গাড়ি-ঘোড়া চলে, আর কৃষকেরা মাস খানেক ধান মাড়াই করেন এটাই দোষের৷

বাস, অটো ও গ্রামবাংলা চালক মিন্টু, সোলেমান ও ইয়াসিন অভিযোগ করেন বলেন, ধানকাটা মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করা মারাত্মক ঝুকিপুর্ণ৷ কৃষকেরা সড়ক জুড়ে ধান ও খড় বিছিয়ে রাখেন৷ নিষেধ করলে উল্টো তারাই মেজাজ দেখান৷

এ বিষয়ে মাগুরার সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় জানান, ‘রবি মৌসুমে সড়কে শস্য মাড়াইয়ের প্রচলন এই এলাকায় রয়েছে। সড়ক কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বেআইনী। সড়কে ভোগান্তি ও দূর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সড়কে শস্য মড়াইকারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে তিনি জানান।

রাস্তায় কৃষকরা যেন ধান সহ যে কোন ফসল না শুকান সে জন্য ম্যাইকিং করে কৃষকদের জানানোর আহবান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নভেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« অক্টো    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা