মাগুরানিউজ.কমঃ
চলতি বছর থেকে সারা দেশের সকল সরকারি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে শুরু হয়েছে। এখন থেকে দেশের কোনো সরকারি স্কুলেই আর সময় ব্যয় করে সশরীরে গিয়ে ভর্তির আনুষঙ্গিক কাজ করতে হবে না। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এর মাধ্যমে নতুন এক মাইলফলক অর্জন করল বাংলাদেশ।
একসময় যেকোনো ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ডিজিটাল’ বলতে বোঝানো হতো কম্পিউটার ক্লাস। কিন্তু সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এখন। ডিজিটাল ক্লাসরুম, ই-বুক, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস প্রভৃতি পর এবার শুধু রাজধানী নয়, জেলা পর্যায়ের ছোট বাচ্চারাও ভর্তি হবে অনলাইনের মাধ্যমে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৭ হাজার ৬৭২টি। আর ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি একসঙ্গে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের পুরো প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। অধিকাংশ স্কুলের জাতীয়করণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশে সরকারি ও জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৩ হাজার ৮৬৪টি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্যমতে, হাই স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলিয়ে সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩২৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে প্রাথমিক স্কুল শাখা।
গত বছর রাজধানীর ৩৫টি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। এবার ঢাকা মহানগরীসহ (চট্টগ্রাম ছাড়া) সকল বিভাগীয় ও জেলা সদরের সরকারি স্কুলে সকল শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অনলাইনে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুলে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ১৩ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে ভর্তি আবেদন করা যাবে।
আবেদনের নিয়ম : https://gsa.teletalk.com.bdএই ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে টেলিটকের মাধ্যমে।
অনলাইনে আবেদনপত্র সাবমিট করার পর আবেদনকারীরা একটি ইউজার আইডি পাবে। এ আইডি ব্যবহার করে যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর হতে এসএমএসে আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে। ইউজার আইডিপ্রাপ্তদের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। এ জন্য দুটি এসএমএস করতে হবে আবেদনকারীকে। প্রথম এসএমসে GSA স্পেস Yes স্পেস ইউজার আইডি লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে নামসহ একটি পিন নম্বর পাওয়া যাবে, যা ব্যবহার করে দ্বিতীয় এসএমএস করতে হবে। দ্বিতীয় এসএমএসে GSA স্পেস Yes স্পেস দিয়ে পিন নম্বর (প্রথম এসএমএস হতে প্রাপ্ত) লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
সফলভাবে আবেদন ও আবেদন ফি প্রদান সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় এসএমএসে প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে টেলিটক ওয়েবসাইট হতে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর ৩০০–৩০০ পিক্সেল সাইজের রঙিন ছবি স্ক্যান করে জেপিইজি ফরম্যাটে সংযুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট কপি শিক্ষার্থীকে সংগ্রহ করতে হবে। এ থেকে প্রাপ্ত প্রবেশপত্রটি লিখিত পরীক্ষার সময় প্রদর্শন করতে হবে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে লটারির মাধ্যমে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে বাংলা ১৫ নম্বর, ইংরেজি ১৫ নম্বর ও গণিত ২০ নম্বর মোট ৫০ নম্বরের ১ ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ৩০ নম্বর, ইংরেজি ৩০ নম্বর ও গণিত ৪০ নম্বর মোট ১০০ নম্বরের ২ ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। নবম শ্রেণিতে জেএসসি ও জেডিসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

