বাংলাদেশ পেল অনন্য স্বীকৃতি। আজ থেকে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ

মাগুরানিউজ.কমঃ

bangladesh-field

নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উত্তোরণ ঘটেছে বাংলাদেশের। মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি। বুধবার বিশ্বব্যাংকের এক সভায় বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের সূচকের ক্ষেত্রে এই উলম্ফনকে বড় ধরনের অগ্রগতি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশে অবস্থান করছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অবস্থানের উত্তোরণ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের এই উত্তোরণে বিশ্বব্যাংক গত বছরের তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করেছে।

প্রতি বছরের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক মাথাপিছু আয়ের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব অর্থনীতিতে আয়ের শ্রেণীবিভাগ করে থাকে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০৮০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার, কেনিয়া ও তাজিকিস্তানও নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে।

ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে এই উত্তোরণ একটি মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে।’ বাংলাদেশ এখন আর নিম্ন আয়ের দেশ নয়- এ নিয়ে গর্ব করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কেবল যাত্রা শুরু করেছে। নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উত্তোরণ এর একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মাত্র।’

এদিকে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। ওই বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষ উদযাপন করবে।

গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থ বছরের তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারের উন্নীত হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলার। আর ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ছিল ১ হাজার ১৫৪ মার্কিন ডলার।

এদিকে কোনো দেশ টানা তিন বছর মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করলেই বিশ্বব্যাংক তাকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।

বিশ্বব্যাংক বিশ্ব অর্থনীতিকে চারটি ভাগে ভাগ করেছে। সেগুলো হলো- নিম্ন, নিম্ন-মধ্য, উচ্চ-মধ্য এবং উচ্চ আয়ের দেশ।

যদি কোনো দেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৫ ডলারের নিচে হয় তাহলে দেশটি হবে নিম্ন আয়ের। যদি কোনো দেশের মাথাপিছু আয় ১০৪৬ থেকে ৪১২৫ মার্কিন ডলার হয় তা হলে দেশটি হবে নিম্ন-মধ্য আয়ের। মাথাপিছু আয় ৪১২৬ থেকে ১২ হাজার ৭৩৫ হলে দেশটি হবে উচ্চ-মধ্য আয়ের। আর মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ৭৩৫ মার্কিন ডলারের অধিক হলে দেশটি হবে উচ্চ আয়ের।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে লিখেছে, বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ রেকর্ড অর্জন করেছে। গত দশকে দেশটি প্রতি বছরই প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো অগ্রগতি হয়েছে মানব উন্নয়েনের ক্ষেত্রেও। দারিদ্র্য সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষা ও মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের হার বেড়েছে।

১৯৯২ সাল থেকে দেড় কোটি লোক দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: