মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরায় প্রথমবারের মত ‘নবদুর্গা পূজা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাগুরা সদরের পুখরিয়া গ্রামের দে বাড়িতে প্রথমবারের মত এই নবদূর্গা পূজা চলছে।
মাগুরার পুখরিয়া গ্রামের দে বাড়ির পূজা মন্ডপে গত বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যাপক আয়োজনে শুরু হয়ে গেছে ৯ দিনব্যাপী নবদূর্গা পূজা। দুর্গা পূজার আগে চারদিন মিলিয়ে ৯দিনব্যাপী এ পূজার শাস্ত্রীয় নাম ‘নবদুর্গা পূজা’। স্থানীয়দের মধ্যে এই পূজা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
প্রচলিত রীতিতে ষষ্ঠী থেকে দশমী অবধি দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হলেও সনাতন চণ্ডী শাস্ত্রমতে ৯ দিনব্যাপী নবদূর্গা পূজা মাগুরার পুখরিয়া গ্রামের দে বাড়ি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের দাবী, শাস্ত্রমতে ৯ দিনব্যাপী এ পূজা থেকে শক্তি নিয়েই শ্রী রামচন্দ্র রাবণকে বধ করেছিলেন। আর সে স্থানটি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলার কালিদহ বাওড়ের তীরে। সে সময় এ অঞ্চল ছিল সাগরের মাঝে। আর বগুড়ায় ছিল সেই সাগরের কালিদহ তীর। সেই মতে ভারতীয় উপমহাদেশের মাত্র কয়েকটি এলাকাতেই এ নবদুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়।
এ পূজার আয়োজক পুখরিয়া গ্রামের আনন্দ গোপাল দে জানান, যেহেতু চণ্ডী শাস্ত্রে মায়ের ৯টি রূপে ৯দিন ব্যাপী পূজার আয়োজনের কথা বলা আছে। তাই পরিপূর্ণ শাস্ত্র মেনে পূজা করতে গেলে এই নবদূর্গা পূজার আয়োজনই উত্তম। এ বছর আমাদের বাড়িতে নবদুর্গা পূজার এ আয়োজন করেছি। যা আমরা চালিয়ে যেতে চাই।
এলাকায় আগাম একটি পূজার আবহ তৈরী হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে পেরে খুশি এলাকাবাসি।
নবদুর্গা পূজার পূজারী শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী জানান, শ্রী চণ্ডী মতে মহালয়ার পরে থেকে প্রতিদিন শৈলপুত্রি, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্ধমাতা, কাত্যায়নী, কালোরাত্রি, মহাগৌরি ও সিদ্ধিদাত্রী এই ৯ নামে মা দূর্গার আরাধনা করা হয়। আর দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মা কৈলাসে গমন করেন। নবদুর্গার এই পরিপূর্ণ আরাধনাই নবদুর্গার আরাধনা।

