মাগুরানিউজ.কমঃ
একাদশ শ্রেণীর ভর্তির তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছয়টি বিশেষ অভিযোগকে আমলে এনে এ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের নির্দেশেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত রোববার মধ্যরাতে একাদশ শ্রেণীর ভর্তি আবেদেনর প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশের পর থেকেই গণমাধ্যম থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন শিক্ষা সজিব নজরুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে কার্যালয়ে দিনভর অপেক্ষা করেও তার দেখা পাননি সংবাদকর্মীরা। যদিও তিনি নিজ কার্যালয়েই অবস্থান করছিলেন।
জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়ে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা করার উদ্যোগ নিলেও, এখন এটি তার ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তিনি যেকোনো মূল্যে এসব সমাধান করতে চান।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেরই অভিযোগকে আমলে নিয়েছি। আমরা নীতিমালা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। আশা করি, শেষ পর্যন্ত কারো কোনো সমস্যা থাকবে না। আর কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত আসন রয়েছে, একটি শিক্ষার্থীও কলেজে ভর্তি না হয়ে থাকবে না।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেছেন কি না এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই ক্ষেপে যান জ্যেষ্ঠ এ আমলা। তিনি বলেন, ‘আপনাদের এসব তথ্য কে দেয়? নীতিমালা সবার পরামর্শ নিয়েই করা হয়েছে। এখনো কেউ একক ক্ষমতা খাটায়নি।’
তবে শিক্ষা সচিবের ঘনিষ্টজনরা বলছেন, মুখে যতই কথা বলুন, ভেতরে ভেতরে মুষরে পড়েছেন সচিব। বারো লাখ শিক্ষার্থীর ওপর নিজের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বেশ চিন্তায় রয়েছেন।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে ফোনে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষা সচিব। তিনি মোবাইল ফোনে কখনও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী মঞ্জুরুল কবীরকে আবার কখনও বুয়েটের কম্পিউটার বিভাগের অধ্যাপকদের সব ‘ভুল শুদ্ধ করে’ দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
দুপুর ২টার কিছু পরে শিক্ষা সচিব মঞ্জুরুল কবীরকে ফোন দিয়ে দ্রুত জটিলতা নিরসন করার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময়ই মঞ্জুরুল কবীর বলেন, ‘প্রকাশিত মেধাতালিকা পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। মোট ছয়টি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এগুলো হলো- নিশ্চয়ন; অর্থাৎ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর তালিকা পূরণ করে অনলাইনে বোর্ডে পাঠাতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি এই তালিকা বোর্ডে না পাঠায় তাহলে আরও ঝামেলা হবে। কোনো শিক্ষার্থী একটি কলেজে ভর্তি হয়ে গেলে রিলিজ স্লিপ নিয়ে অন্য কলেজে ভর্তি হতে পারবে কি না। প্রকাশিত তালিকায় মেয়েরা ছেলেদের কলেজে ভর্তিযোগ্য বলে প্রকাশ হয়েছে। এটি নিরসন করা। মাইগ্রেশন হচ্ছে কি না এবং কলেজে ভর্তি না হয়েই মাইগ্রেশন করতে পারবে কি না।’
এ প্রসঙ্গে মঞ্জুরুল কবীর বলেন, ‘এসব বিষয় সমাধান করে আগামী ৬ জুলাই দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে।’ ওই সময় আর জটিলতা থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


