সমকামীতায় রঙধনু ও নাস্তিকতা- খান নয়ন

মাগুরানিউজ.কমঃ 

mn

সূদুর মার্কিনমুল্লুকে জুঁটেছে সমকামীতার বৈধতা। কিন্তু এর পুরো রঙ যেন বাংলাদেশের আকাশে। আজ দুদিন হল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নানা ব্লগে ঝড় উঠেছে সমকামীতার বৈধতার প্রসঙ্গে। পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি তর্ক চলছে অবাধে। এই সমকামীতার পক্ষে সমর্থন জানাতে চলছে নানা আয়োজন। আবার অনেকে ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল পিকচারটা রঙধনু এঁকে একাত্বতা প্রকাশ করছেন।

সমকামীতায় বিবাহ সমর্থন করা হয়েছে। কিন্তু নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অর্জন হল সন্তান জন্মদান। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রজনন লাভ করে আসছে। কিন্তু সমকামীতায় হয়তো প্রজনন মানে না, যৌন সুখকেই মুখ্য বলা হচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্ককে ভিন্নতা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে তো ভবিষ্যত্ প্রজন্ম এর প্রজনন বিকাশে খানিকটা বাধা হতে পারে। সমকামীতায় কাম থেকে প্রকৃতিকে আলাদা করা দেয়। সৃষ্টি ছাড়া প্রকৃতি অসৃম্পর্ণ, তবে সৃষ্টির মাঝেই তো প্রকৃতি বহমান। এক জরিপে দেখা গেছে আজ থেকে যদি পৃথিবীর সবাই সামকামীতা গ্রহন করে তবে ৪০ বছর পর আর কোন মানব প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া দায়।

তবে কারও যৌনসুখ আকাঙ্খা বা প্রকৃতির ডাক হরণ করবার অধিকার কারও নেই। হয়তো সে mnথেকে মার্কিন দেশে এর বৈধতা মিলেছে। প্রতিবারের ন্যায় আমরা এ নিয়ে মাথাব্যথার কমতি করছি না। সব কিছুতে যেন ধর্ম টেনে আনা কিছু মানুষের নিত্য নৈম্যত্তিক ব্যাপার। এক শ্রেণীর সুবিধা ভোগেী নাস্তিক ব্লগার তো এবারও এর ফয়দা নিতে ভুল করল না। তাদের সুযোগ এসেছে আলোচনায় আসবার। তাদের কারণে আমাদের মত শখের ব্লগিংকারী লেখকদের বার বার বিব্রত হতে হচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন চলে আসছে ব্লগিং বা নাস্তিকতা কি? আসলে আগে জানতে হবে নাস্তিকতা কি? নাস্তিকের কাজটা কি? নাস্তিক যিনি তিনি সকল ধর্মকে অস্বীকার করেন। নির্দিষ্ট কোন ধর্মকে আঘাত করাই যদি কাজ হয়ে থাকে বতে তা হাস্যকর এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে গণ্য হবে।

এই কাজটি প্রতিনিয়ত হতে চলেছে। সমকামীতাকে যারা সমর্থন দেন তারা ফেসবুক-এ নিজের প্রোফাইল পিকচারটি রঙধনু এঁকে এক প্রতিকী সমর্থন জানাচ্ছেন। যার মনে হচ্ছে বা সমর্থন যোগানকারী এমনটি করতেই পারেন। তবে এটির সুযোগ নিয়ে নিজেকে ব্লগার পরিচয়দানকারী আসিফ মহিউদ্দিন আমাদের মুসলমানদের পবিত্র ক্বাবা শরীফকে ফটোশপের সাহায্য রঙধনু এঁকে পোষ্ট দিয়েছেন। জার্মানিতে অবস্থানকারী আসিফ মহিউদ্দিন নিজেকে বরাবরই নাস্তিক বলে পরিচয় দিলেও আমি মনে করি এটি নির্দিষ্ট ধর্মকে আক্রমন করে উগ্র মৌলবাদকে উস্কে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই না। একটা ব্যাপার খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন, সমকামীতা ঘিরে কিছু নাস্বিক ব্লগারের উচ্চাশা কিসের আলামত?

কিছুদিন আগে এক ছবিতে দেখলাম তসলিমা নাসরিন, আরিফ রহমান আর আসিফ মহিউদ্দিন এক চা চক্রে লিভ টুগেদার নিয়ে ভিডিও আপলোড করেছেন। তারা লিভ টুগেদারের ভব্যিষ্যত দারুণ ভাবে জমেছেন। আসিফ মহিউদ্দিন তসলিমা নাসরিনকে বলছেন, এখন ঢাকাতে অনেকেই হরহামেসাই লিভ টুগেদার করছে। কিন্তু সে সময় আড্ডায় তারা চায়ের কাপ একটি কোরআন শরীফের উপর রেখেছেন। আমি মনে করি এইসব কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের আলোচনায় আনবার কৌশল হিসাবে বেছে নিয়েছেন।

আলোচিত হওয়ার উচ্চাকাঙ্খা থেকে কেও যদি বেশ্যাবৃত্তি বেছে নেয় তবে তার জন্য আমরা করুণার্ত হতে পারি, তাকে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলে তো তার উদ্দেশ্য ই পূরণ হবার পথটা আরো প্রশস্থ করে দেওয়া। ২০১১ সালের নির্বাচনে জামাত ক্ষমাতায় আসবার পর হিন্দুদের উপর হামলা চালিয়েছিল। এই হামলা হয়তো তারা নির্বাচনের উৎসব হিসাবে নিয়েছিল। সব সময় দেখলাম জামাত মানেই হিন্দু নিপিড়ন এবং নাস্তিকতা মানে ইসলাম বিদ্বেষ। তবে সবাই তার ঈমানি শক্তি আরো মজবুত করতে এবং নিজের জায়গায় সচেষ্ট থাকলে নাস্তিকদের আক্রমণ কারও ঈমানি শক্তিতে স্পর্শ করতে পারে না।

মার্কিন মুল্লুকে রঙধনু নিয়ে আমাদের এত মাখামাখি না করে নিজস্বতা নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে। তা না হলে সুবিধাভোগী ইসলামের বিদ্বেষকারী নাস্কিরা সুযোগ নিতে ভুল করবে না এবং সেই সাথে উগ্র মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। ধর্মীয় উগ্রতা ও নাস্তিকতা এ দুটোই জঙ্গিবাদকে উস্কানি দেয়।

আমরা পৃথিবীর বুকে একমাত্র দেশ যেখানে প্রধান চারটি ধর্মীয় উৎসব সমান গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় ভাবে পালন করা হয়। এর থেকে অসাম্পদায়িকতার বড় উদাহরণ আর কি হতে পারে?

সোহানুজ্জামান খান নয়ন

লেখক ও সাংবাদিক                                                                                            

khan_noyon@yahoo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: