মাগুরায় মন্দিরে জঙ্গি আতঙ্কের অবসান, পরিবারের জিম্মায় অনুপ্রবেশকারী যুবকেরা।

মাগুরানিউজ.কম:

mnবিশেষ প্রতিবেদকঃ

জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে হন্যে হয়ে চার যুবককে খুঁজছিল মাগুরা পুলিশ। কারণ তাঁরা শহর কালীমন্দিরের পুরোহিতকে খুঁজছিলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তবে রাতে তাঁদের খোঁজ পাওয়ার পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানিয়েছে, চার যুবকের কারোরই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অবসান ঘটে দিনভর জঙ্গি-আতঙ্কের।

চার যুবক হলেন মাগুরা পৌরসভার কাশীনাথপুর গ্রামের সুমন আহমেদ, সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মো. সাহাবুদ্দিন, রায়গ্রামের সাহাবুদ্দিন ও শহরের পারলা গ্রামের মো. আকাশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় মাগুরা শহরের নতুন বাজারে কালীবাড়ি মন্দিরে এক যুবকের সন্দেহজনক উপস্থিতি, মন্দিরের বাইরে তাঁর তিন সঙ্গীর ঘোরাফেরা এবং বারবার পুরোহিতের খোঁজ করার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাঁরা থানা-পুলিশকে খবর দেন।

ঘটনা জানার পর মন্দিরে স্থাপন করা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যায় চার যুবক রিকশায় করে মন্দিরের ফটকের পাশে নামেন। পাঞ্জাবি ও চশমা পরা এক যুবক মন্দিরে ঢোকেন। অন্য তিনজন ফটকের পাশে থাকেন। মন্দিরে প্রবেশ করা যুবকের হাতে ব্যাগ ছিল। কারও সঙ্গে কথা না বলে তিনি সন্দেহজনকভাবে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলেন। একটু পরই মুঠোফোনে কথা বলে তিনি মন্দির থেকে বেরিয়ে ফটকের কাছে যান। সেখানে অন্য তিন যুবকের কাছে হাতের ব্যাগটি রেখে আবারও মন্দিরে ঢোকেন।

পরে সন্দেহজনক চলাফেরার কারণ জানতে চাইলে ওই যুবক বলেন, তিনি পুরোহিতের কাছে ‘তাবিজ ও তদবির’ নিতে এসেছিলেন। পুরোহিত উপস্থিত নেই জানানো হলে তারা মন্দির থেকে বেরিয়ে যান।

এদিকে গতকাল সারা দিন ঘটনাটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হলে সুমন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি পুলিশ সুপারকে ফোন করে জানান তিনি ওই মন্দিরে গিয়েছিলেন। তাঁর ছবিই সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে টিভিতে দেখানো হচ্ছে। পুরে পুলিশ গিয়ে সুমনকে নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানান, তিনি আবালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।

দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি চার যুবক জঙ্গি নন। মন্দিরে প্রবেশ করা যুবক সুমন অসুস্থ। তিনি পুরোহিতের কাছে তাবিজ ও তদবির নিতে গিয়েছিলেন। সুমন নামের ঐ যুবক ২৬ দিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দুদিন আগে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাগুরা সদর থানায় নিয়ে আসার পর ফোন করে অন্যদেরও থানায় ডেকে আনা হয়। পরে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: