মাগুরানিউজ.কমঃ
তখন হোলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টের ভেতরে সকলের সঙ্গে আতঙ্কের শেষ প্রহর গুনছে ফারাজ হুসেন ও তার বন্ধু৷ এই হয়ত নেমে আসবে মৃত্যুর দূত, ধড় থেকে আলাদা হয়ে যাবে মাথা৷ কিন্তু না ফারাজের সঙ্গে সেটা হয়নি৷ বাংলা বলতে পারায় তাকে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরুনোর অনুমতি দিয়েছিল জঙ্গিরা৷ কিন্তু নিজের বন্ধু অবিন্তা কবিরকে রেস্টুরেন্টের ভেতরে রেখে বেরিয়ে আসেনি ফারাজ৷ বন্ধুর সঙ্গে সঙ্গে তাকেও হত্যা করল জঙ্গিরা৷
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে জঙ্গিদের নিশানা ছিল বিদেশিরা। বাংলাদেশিদের এক সময় তারা ছেড়ে দিতেও শুরু করে।
জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, এমন মানুষদের কাছ থেকে শোনা কাহিনি নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে।
জঙ্গিরা ফারাজ হোসেনকে মুক্তি দেয়। তারা তাকে চলে যেতে বলে।
তার সঙ্গে থাকা অন্য বাংলাদেশিরা নিজেরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় ফারাজকে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য বারবার ডাকতে থাকেন।
ফারাজ বলেন, আমার এই দুই বন্ধুর কী হবে।
জঙ্গিরা জানতে পারে, আবিন্তা কবির এসেছেন আমেরিকা থেকে। তারুশি জৈন ভারতীয়। জঙ্গিরা বলে, ওদের ছাড়া হবে না।
তখন ফারাজ বলেন, দুই বন্ধুকে ফেলে রেখে আমি যাব না।
পরের দিন ফারাজ হোসেনের লাশ পাওয়া যায়।
জন্মসূত্রে বাংলাদেশের বাসিন্দা ফারাজ হুসেন ও অবিন্তা কবির পড়াশোনা করতেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ ছুটিতে এসেছিলেন দেশে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে৷ কিন্তু সেই দেখাই হয়ে গেল শেষ দেখা৷ছুটি কাটিয়ে আর ফেরা হল না এদের৷
শুক্রবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নটা নাগাদ গুলশন-২ এর হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় নয় জঙ্গি৷ তখন রেস্তোরাঁর মধ্যে বন্ধু অবিন্তা ও তারিশির সঙ্গে ছিল ফারাজ৷ ভালো বাংলা বলতে পারায় তাকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল আততায়ীরা৷ কিন্তু অবিন্তা জানতো না বাংলা৷ বন্ধুর মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরেছিল ফারাজ৷ তবুও ছেড়ে বেরিয়ে আসেনি বন্ধুর হাত৷ একসঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে৷কিছু দিন পর সবাই ফিরে যাবেন সাধারণ জীবনে৷ তবুও কোথাও থেকে যাবে বন্ধুর জন্য আত্মত্যাগ করা ফারাজের নাম৷


