বর্ষা আছে, তবুও মাগুরায় মধুমতিতে নেই ইলিশ। জেলেদের হাহাকার

মাগুরানিউজ.কম:

mn

ইলিশের ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে মিলছে না রুপালি ইলিশ। দুই একটি পাওয়া গেলেও ইলিশের রুপালি ঝিলিকের মতো দামটাও ঝলকানো।

এদিকে মাগুরার কোন বাজারেই নেই তেমন ইলিশ। ছোট কিছু ইলিশের দেখা মিললেও তা ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিকোচ্ছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে শত শত জেলে প্রতিদিন জাল ফেললেও হতাশ হয়ে কিনারে ফিরছেন।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে,  জলবায়ু পরিবর্তন হওয়ায় ইলিশের পরিভ্রমণের সময় পরিবর্তিত হয়েছে। এতে মৌসুম থাকা সত্ত্বেও জালে ধরা দিচ্ছে না ইলিশ। তবে ঝোড়ো আবহাওয়াসহ বৃষ্টিপাত বাড়লেই ইলিশ পাওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, ইলিশ মাছ ঝাঁক বেধে সোজাসুজি চলাচল করে। বাধা পেলে ইলিশ গতি পরিবর্তন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের ঋতুগুলোতেও আলাদা বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রভাবে মৌসুমের আগ-পিছ হচ্ছে।

কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম অনেকটা দেরিতে শুরু হচ্ছে। এটা ইলিশ ধরা না পড়ার ক্ষেত্রে একটা অন্যতম কারণ হতে পারে। শ্রাবণে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর-নদীতে চর-ডুবোচর জেগেছে। নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মাছের জীববৈচিত্র্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশেষ করে প্রজননের সময় মিঠা পানিতে চলে আসে ইলিশ। কিন্তু ডুবোচরের পাশাপাশি বিভিন্ন পদার্থের কারণে নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। এ কারণে প্রজননের সময় মিঠা পানিতে আসতে না পারায় ইলিশের প্রজননও হ্রাস পাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ইলিশের সংখ্যা।

জেলেরা মাগুরা নিউজকে জানান, তারা নদীতে ইলিশ ধরতে জাল ফেলছেন। নৌকা নিয়ে জেলেরা ইলিশের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কিন্তু ইলিশের দেখা মিলছে না।

মহম্মদপুর সদরের অচিন্ত রাজবংশী মাগুরা নিউজকে জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু মৌসুমের প্রায় দুই মাস পার হলেও ইলিশ না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

পদ্মার শাখা মধুমতি। গড়াই নাম নিয়ে ফরিদপুরে সীমানা দিয়ে মধুমতি নামে মাগুরায় প্রবেশ করে। মাগুরা নড়াইল ও গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে বরিশালের বলেশ্বর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। মধুমতির ইলিশের সুখ্যাতি ছিল একসময় দেশ জোড়া।

গত কয়েক বছরে নদীতে মাত্রারিক্ত ইলিশ কমে গেছে। কারণ ভরা মৌসুমে মধুমতিতে ইলিশের দেখা মিলছে না। দিন রাত পরিশ্রম করে জেলেরা ফিরছেন শূন্য হাতে। জেলেরা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ অথবা মহাজনের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়ে নতুন করে নৌকা ও জাল সংগ্রহ করেছেন। মাছ না পাওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।

ধুপুড়িয়া গ্রামের জেলে পরিতোষ মাগুরা নিউজকে জানান, সারা রাত নদীতে জাল ফেলে মাত্র ৩টি ইলিশ পেয়েছে। এতে তাদের পুঁজি বাঁচানোই দায়।

মহম্মদপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লিয়াকত আলী মাগুরা নিউজকে বলেন, পলি জমে নদীর গভীরতা ও নাব্যতা কমে যাওয়ায় মধুমতিতে ইলিশ ধরা পড়ছে না। তিনি আরো বলেন, মূলত পদ্মায় কমে যাওয়ায় শাখা নদীতেও ইলিশ কমে গেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: