মাগুরানিউজ.কম: আজ নেপালের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ ২০ সেপ্টম্বর থেকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রবেশ করল নেপাল।
দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও ভূমিকম্পে ক্ষতবিক্ষত দেশটি রবিবার পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান গ্রহণ করেছে। এর মধ্যদিয়ে নেপাল ৬৫ বছরের ইতিহাসে আধুনিক রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু করল।
এদিকে আজ ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে সংখ্যালঘু মাধেসি সম্প্রদায়। রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রের পক্ষের সমর্থকরাও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
নতুন সংবিধানে সর্ব ধর্ম ও সংস্কৃতিকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যদিও কেউ কেউ বলেছেন, এ সংবিধান হিন্দু ধর্মের প্রাধান্যই সূচিত হয়েছে।
২০১৩ সালের নভেম্বরে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হলে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। অবশেষে দীর্ঘ বিতর্কের পর গত বুধবার পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে খসড়া সংবিধান পাশ হয়।
নতুন সংবিধানে হিন্দু রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। দেশটির অধিকাংশ হিন্দু রাজাকে বিষ্ণুর অবতার মনে করেন।
নতুন সংবিধানে সব ধরনের ধর্মান্তকরণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খ্রিষ্টধর্মে রূপান্তরের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল দেশটির অনেক নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ধর্মান্তকরণের পথ থেকে রক্ষা করবে এ সংবিধান।
নাগরিক অধিকার সুরক্ষাসহ নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ করা হয়েছে। নতুন সংবিধানে সমকামী নারী-পুরষের অধিকারসহ তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার সমুন্নত রাখার কথাও বলা হয়েছে। নতুন সংবিধানে গরুকে জাতীয় প্রাণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও আল জাজিরা অনলাইন।

