El Salvador থেকে মাগুরা’র বেঙ্গা বেরইল- Sandra’র ‘জার্নি ফর লাভ’

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnবিশেষ প্রতিবেদকঃ

ফেসবুক প্রেমের অনন্য এক কীর্তিতে সব কিছু ভেঙে চুরমার। দেশের সীমানা, মহাদেশের সীমানা, দূরত্ব, সামাজিক অবস্থান সব কিছু মুছে ফেলে প্রেমের নতুন সংজ্ঞা লিখলেন বাংলাদেশের ‘আলী’ আর আমেরিকার ‘সান্দ্রা’ (Sandra Castillo)। যেখানে হার মানল সিনেমার সব চিত্রনাট্য। সত্যি ভালোবাসা সীমানা চেনে না, মানে না কোন বাধা। পাসপোর্ট-ভিসার জটিলতা ডিঙিয়ে ভালোবাসাই পারে যুগল মিলন ঘটাতে। আলী কাদের ও সান্দ্রা কেরোলিনা তাই প্রমাণ করেছেন। সম্পর্কের শুরু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। অতঃপর ভালোবাসার টানে সুদূর সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে সান্দ্রা ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন প্রেমিকের সঙ্গে।

আলী কাদের পেশায় ব্যাংকার, বাড়ি মাগুরার বেঙ্গা বেরইল গ্রামে এবং সান্দ্রা কেরোলিনা ক্যাস্টিলো হারনান্দেজ, সেন্ট্রাল আমেরিকার এল সালভাদর নিবাসী, পেশায় অর্থনীতিবিদ। কিভাবে তারা প্রেমে পড়েন নিজেরাও প্রথমে বুঝতে পারে নি বলে জানান এই দম্পতি।

সম্প্রতি আলী কাদের ও সান্দ্রা কেরোলিনার ‘মাগুরানিউজ’কে গল্পচ্ছলে জানান তাদের ভালবাসা-ভাললাগার কথা।

২০০৯ সালের শুরুর দিকে, আলী কাদের তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র আর সান্দ্রা এল সালভাদর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্রী। দুজনেরই ফ্রেন্ড লিষ্টে আছেন। প্রায়ই কথা হয় নানা বিষয়ে। ফেইসবুকের মাধ্যমে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। চ্যাট করতে গিয়ে পরস্পরকে জেনে নেন তারা। জানার আগ্রহ থেকে আলোচনা করতে করতে মনের অজন্তেই তারা ভিন্ন মহাদেশের সীমানা পেরিয়েও পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান।

কথোপকথনে জানান তাদের চ্যাটের কোন নির্ধারিত সময় ছিল না। কাজের ফাঁকে, অবসরে, ঘুমানোর আগে চ্যাট হতো দু’জনের। কথা হতো নানা বিষয়ে। কিন্তু তখনও বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানতেন না সান্দ্রা। আলী জানতে চেয়েছিলেন, ডু ইউ হ্যাভ আইডিয়া এব্যাউট বাংলাদেশ? সান্দ্রা জানিয়েছিলেন, নো আইডিয়া।

তবে বাংলাদেশী যুবকের বন্ধুত্বে সান্দ্রা ক্রমাগত মুগ্ধ হন। তাদের বন্ধুত্বের পালে তখন অন্যরকম হাওয়া। শিহরিত হচ্ছেন দু’জনেই। পরস্পরের সুখ-দুঃখগুলো যেন ভাগ করে নেন তারা। কোন সুসংবাদ আলীকেনা জানালে ঘুম হারাম সান্দ্রার । সবার আগে আলীকে জানানো চাই। অভিন্ন অবস্থা আলীরও। অতঃপর এক শুভক্ষণে তারা প্রকাশ করলেন না বলা কথাটি।

তারপর থেকে ম্যাসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপে ও স্কাইপে কথা হতো দুজনের।

mnপ্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার দূরে সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এল সালভাদরের সাথে বাংলাদেশের কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই তাই বাংলাদেশে আসতে হলে হয় যুক্তরাষ্ট অথবা ব্রাজিল হয়ে আসতে হয়।

সান্দার কথায়, আমার পক্ষে বাংলাদেশ আসা কঠিন ব্যাপার ছিল কারণ একে তো সম্পূর্ণ নতুন জায়গা আর আলীকেও কোন দিন আগে দেখিনি। আমার ভাই এবং মা যুক্তরাষ্টের ওয়েস্ট নিউইয়র্কের বাসিন্দা। তারাও প্রথমে রাজি হননি এত দূরে আসতে দিতে। অনেকে আবার ভয় দেখান যে বাংলাদেশে গেলে আলী তাকে মেরেও ফেলতে পারে, অন লাইনের প্রেম সত্য হয় না।

সান্দ্রা ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, যদি মৃত্যুও হয় তবুও ভালবাসাকে সত্যে পরিণত করব এ ব্যাপারে আমি প্রত্যয়ি ছিলাম। তাই প্রথমে মেক্সিকো, পরে যুক্তরাষ্টের ভিসা এবং অবশেষে নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশে দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করি।

আলি ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন তিনিও সান্দ্রার কাছে যাবার অনেক চেষ্টা করেন। ভারতে এল সালভাদরের দূতাবাস থেকে ভিসা নিতে গেলে তাকে বলা হয় এল সালভাদর বাংলাদেশিদের কোন ভিসা প্রদান করে না।

আলী হতাশ হলেও সান্দ্রার আসার অপেক্ষা করতে লাগলেন। আলির ভাষায় এ যেন চাতক পাখির মত প্রতীক্ষা।

সান্দ্রার সঙ্গে কথা বলার সময় সান্দ্রা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, রিয়েলি ইট’স এ নাইস কান্ট্রি। আই এনজয় ইট। তিনি তার বর আলী সম্পর্কে বলেন, আলী ইজ এ গুড বয়। নট কমপেয়ার।

mnআলীর কথায় সান্দ্রা খুব ভালো মেয়ে। উদার মানসিকতার। অন্য আট-দশটা মেয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আকাশচুম্বী চাহিদা নেই তার। সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত এ মেয়েটা আপাদমস্তক একজন ভালোমানুষ। বউ হিসেবে এরকম মেয়ে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার বটে।

সান্দ্রার বাংলাদেশে আসার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলী ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, বিদেশে যাওয়ার তেমন কোন ইচ্ছে তার কখনও ছিলো না। এমনকি সান্দ্রার সঙ্গে প্রেম করার পেছনেও এরকম কোন উদ্দেশ্য ছিল না। সান্দ্রার প্রতি অল্প সময়েই মুগ্ধ হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পরস্পরকে ভালোবেসেছি। এ থেকেই সান্দ্রা আমাকে এল সালভাদরে যেতে উৎসাহিত করে। আমার খুব ইচ্ছে হয় তার কাছে ছুটে যাই। হৃদয়ের এই টান থেকেই ভিসার জন্য আবেদন করেন। ভারতে এল সালভাদরের দূতাবাস থেকে ভিসা নিতে গেলে তাকে বলা হয় এল সালভাদর বাংলাদেশিদের কোন ভিসা প্রদান করে না।

আলী ভিসা পাননি- জেনে কান্নাকাটি করেন সান্দ্রা। প্রিয় মানুষের সঙ্গে দেখা হবে এ প্রত্যাশায় ছিলেন তিনি। তবে হতাশায় ভেঙে পড়ার মতো মেয়ে তিনি নন। আলীর মতে, সান্দ্রা সবসময় সব বিষয়কে পজিটিভ দেখেন। চিন্তা করেন। এমনকি তার কাজও থাকে পজিটিভ। সান্দ্রা ওই সময়েই জানিয়ে দিলেন, আলীকে যেতে হবে না। তিনি আসবেন আলীর কাছে। বাংলাদেশে এসেই  বিয়ে করবেন তিনি।

সান্দ্রার পরিবার আলীর সাথে অনেক বার কথা বলে নিশ্চিত হন যে আলী একজন ভাল মানুষ, তারপর তারা সান্দ্রাকে অনুমতি দেন বাংলাদেশে যাবার। 

mnযেই কথা সেই কাজ। সান্দ্রা ওদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে কাজ করতেন। ২০১৫ সালে তিনি তার চাকুরি থেকে ইস্তফা দেন। ১০ই এপ্রিল, ২০১৫ বাংলাদেশে আসেন সান্দ্রা। আলী তখন বাগেরহাটে কর্মরত। সেদিন হরতাল চলছিল। চাল বোঝাই নছিমনে আলী ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন। সকাল ৬ টায় সান্দ্রা আলীকে অন্য একজন লোকের মোবাইল থেকে ফোন করে জানান তিনি পৌছে গেছেন। আলী তখনও তার ছোট ভাই জয়নুলের মোটর সাইকেলে বিমান বন্দরের পথে। বিমানবন্দরেই তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন আলী। দীর্ঘ ৫ বছরের অপেক্ষার পালা শেষ হল। আর এটাই ছিল তাদের প্রথম দেখা।

বিমানবন্দরে তাদের পাশে ততক্ষণ শত মানুষের ভীড়। সকলের অভিনন্দন ও শুভকামনায় শুরু হলো তাদের নতুন জীবন।

আলী ও সান্দ্রা ঐ দিনই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আলীর গ্রামের বাড়ী মাগুরার বেঙ্গা বেরইল গ্রামে সান্দ্রা তার শশুর-শাশুড়ীর সান্নিধ্যে আনন্দময় দিন কাটান। এখন কর্মসুত্রে ঢাকার গুলশানে বসবাস করছেন তারা।

আলী ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, মা-বাবার সঙ্গে ইশারা-ইঙ্গিতেই কথা হয় সান্দ্রার। অবশ্য দোভাষীর কাজ করে দেন আলী। এখানেই শেষ না। সান্দ্রার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছে যখন খিলগাঁও এলাকায় তিনি দেখেছেন, রাস্তায় থাকছে মানুষ। সান্দ্রা  ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, আমি ভাবতে পারিনি এখানে মানুষ এতো কষ্টে আছে। তবে এ দেশের মানুষ অনেক ভালো। তার বিশ্বাস তারা একসঙ্গেই থাকবেন আজীবন।

বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্কে ‘সান্দ্রা’ ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, “The people of Bangladesh is very friendly and thanks to Bangladesh for allowing me to be here and knowing more about this wonderful country with my husband, Ali Kader”, Sandra Castillo, Economist and Consultant, El Salvador, Central America.

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: