মাগুরানিউজ.কম:
গর্ভে থাকা অবস্থায় অনাগত শিশুটির শরীরে গুলি লাগায় তার মায়ের জীবন রক্ষা পেয়েছে। এমনটাই বললেন নাজমার অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক।
গুলিবিদ্ধ মা নাজমা খাতুনের অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক শফিউর রহমানের বলেন, শিশুটি মায়ের পেটে না থাকলে গুলির আঘাতে মায়ের জীবন বিপন্ন হতো। গুলিটি শিশুটির শরীর ভেদ করায় সেটি আর মায়ের খাদ্যনালী ও নাড়িভূঁড়ির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। শিশুটিই মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে। প্রথমদিকে মা সংকটাপন্ন থাকলেও এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।
ডা. শফিউর রহমানের জানান, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারের পর দেখা যায় মায়ের পেটের মাংসপেশির ভেতর বুলেটটি আটকে আছে। সেখানে আটকে যাওয়ার আগে বুলেটটি মায়ের পেটে থাকা শিশুটির পিঠ দিয়ে ঢুকে বুকের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। এরপর সেটি আবার গলার নিচ দিয়ে ঢুকে ডান চোখের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এ কারণে বুলেটটি খুবই দুর্বলভাবে মায়ের মাংসপেশিতে আঘাত করেছে।
বুধবার বিকালে মাগুরা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ মা নাজমা খাতুন যন্ত্রণা ক্লিষ্ট মুখে শুয়ে আছেন।
কান্নাজিত কন্ঠে এসময় নাজমা বলেন, ‘আমার মেয়েটার জন্মের পর ওর মুখটাও আমি এখনো দেখতে পারলাম না।
গুলিবিদ্ধ শিশুটির বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার সাথে সাক্ষাতে তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নাই। এসপি সাহেব আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তিনিই আমার বাচ্চাটাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং এখনো চিকিৎসা চালিয় যাচ্ছেন। আমার বাচ্ছাটা এখন ভালো আছ বলে জেনেছি।
এ ব্যাপারে মাগুরার এসপি এ কে এম এহ্সান উল্লাহ বলেন, ‘আমি শিশুটিকে ঢাকায় পাঠিয়েছি। এটি একটি মানবিক দায়িত্ব’। আশাকরি খুব দ্রুতই মায়ের কাছে ফিরবে শিশুটি।
এদিকে মামলার প্রধান আসামী জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সুমন ঘটনার সময় মাগুরাতে ছিলেননা। তিনি ঢাকাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ছিলেন এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ সুত্র।


