মাগুরানিউজ.কমঃ
অর্থের অভাবে বেতন বাবদ চিনি দেয়া হচ্ছে পাবনা সুগার মিলে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধে এ অভিনব সিদ্ধান্ত নেয় মিল প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্তে খুশি নন সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
পাবনা সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিন মাসের বেতন বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মিলের গুদামে পড়ে আছে ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, যার মূল্য ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। নগদ অর্থ না থাকায় অবিক্রিত চিনি দিয়ে বকেয়া বেতনের সমন্বয় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বেতন বকেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘যে সব শ্রমিক-কর্মচারী চিনি নিতে চাচ্ছেন শুধু তাদেরই টাকার বদলে বেতন বাবদ চিনি দেয়া হচ্ছে। কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না।’
এদিকে, অর্থের প্রয়োজনে চিনি নিয়ে মিলগেটেই দালালদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন শ্রমিকরা। পাবনা সুগারমিলের কর্মচারী এবং শ্রমিকনেতা আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘মিল থেকে চিনি নিয়ে বিক্রি করতে গেলে বস্তাপ্রতি দেড় থেকে দুশ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। তিনমাস বেতন না পাওয়ায় অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে। এখন বেতনের বদলে চিনি দেয়ায় আমরা মহাবিপদে পড়েছি।’
মিলগেটে খোলা চিনি প্রতি কেজি ৩৭ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৪২ টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে আমদানিকৃত দেশি চিনির চেয়ে সাদা হওয়ায় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা আমদানি করা চিনি ক্রয় করে থাকে। দেশি চিনি গুণে ও মানে উন্নত হওয়া সত্ত্বেও শুধু রং একটু লাল হওয়ায় তা বিক্রি হচ্ছে না।
এ অবস্থায় মিলের শ্রমিকরা চিনি নিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে সময়মতো বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।


