মাগুরানিউজ.কমঃ
আজ বুধবার বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে প্রকাশ্যে মাগুরা ঢাকা মহাসড়কের মাগুরা সদর উপজেলার লক্ষীকান্দর নামক স্থানে আইন ও শলিস কেন্দ্রের (আসক) মানবাধিকার কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে তরুনী অপহরণ এর ঘঁটনা ঘটেছে। আহত মানবাধিকার কর্মী সামছুন্নাহার (৫০) কে পুলিশ প্রহরায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পুলিশ আপহৃত রুনী ফারজানা আক্তার রানীকে (১৮) উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশি অভিযান চলছে।
পুলিশ ও আহত মানবাধিকার কর্মী সুত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামনগর গ্রামের মোহর আলীর মেয়ে ফারজানা আক্তার রানীর (১৮) সাথে মাগুরা শহরের সাতদোহা পাড়ার রকিবুল ইসলাম রিপুর ৪ বছর পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। বয়স কম অনৈতিক কাজ ও অত্যাচারের জন্য ফারজানা আক্তার রানী রিপুর সাথে সংসার করতে অনিহা প্রকাশ করে। রিপুর এটি ৭ম বিয়ে ছিল। ফারজানা আক্তার রানী তার সাথে যেতে চায়না। সে ঢাকার আইন ও শালিশ কেন্দ্রের শেল্টার হোমে ছিল।
এদিকে রকিবুল ইসলাম রিপু বাদী হয়ে মাগুরা আদালতে ফারজানা আক্তার রানীসহ ৬জনকে আসামী করে মামলা করে যাহার নং-৪২/১৮।
মানবাধিকার কর্মী সামছুন্নাহার জানান, গত ৪ মার্চ রানী ঢাকার লালমাটিয়ায় আসকের শেল্টার হোমে আশ্রয় নেন। ইতিমধ্যে তার স্বামী রকিবুল ইসলাম রিপু মাগুরা সদর থানায় তার স্ত্রী ফারজানার বিরুদ্ধে চুরি ও ব্যাভিচারের মামলা করেন। এই মামলার আসামি হিসেবে মাগুরা সদর থানা পুলিশ মঙ্গলবার (৬ মার্চ) ফারজানাকে আসকের শেল্টার হোম থেকে মাগুরা নিয়ে আসে। আসকের প্রতিনিধি ও জিম্মাদার হিসেবে তিনিও ফারজানার সঙ্গে মাগুরা আসেন।
তিনি আরও জানান, বুধবার দুপুরে ফারজানাকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ফারজানার জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। ফারজানার ইচ্ছানুযায়ী আদালত তাকে আসকের জিম্মায় দেয়।
শামসুন্নাহার জানান, জামিন লাভের পর পুলিশ হেফাজতে তারা বিকাল সাড়ে ৪টায় মাগুরা বাস টার্মিনাল থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি মাগুরা সদরের লক্ষ্মীকন্দর পৌঁছলে একটি মাইক্রোবাস সামনে দিয়ে বাসটিকে থামানো হয়। পরে রিপুর নেতৃত্বে ৪-৫ জন অস্ত্রধারী বাসে উঠে তাকে ও ফারজানাকে মারপিট করে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে নেয় বলে শামসুন্নাহার জানান।
“তারা আমাকে পিটিয়ে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে ফারজানাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।”
হাসপাতালে উপস্থিত মাগুরা সদর থানার এসআই আশরাফ জানান, আমরা পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে বিকালে সাড়ে ৪টায় তাদের ঢাকার বাসে তুলে দিয়ে আসি। পরে জানতে পারি একজনকে আহত করে ফারজানা আক্তার রানীকে অপহরন করে নিয়ে গেছে ।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আল হাসান বলেন, আসকের প্রতিনিধিসহ অপহৃত ফারজানাকে তাদের চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল। তবে পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ অপহৃত নারীকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।


