মাগুরানিউজ.কমঃ
সকালে ৭ মার্চের র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে হবে। কিন্তু স্কুলের পোশাক ছেঁড়া। মাকে সেলাই করে দিতে বলার পরও না দেওয়ায় আছিয়া নামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, এমনটাই জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার সকালে মাগুরার শালিখা উপজেলার গোপালগ্রামে।
মাগুরার শালিখা উপজেলার পোড়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আছিয়া খাতুন লুইস একই উপজেলার গোপালগ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক হাসান আলী বিশ্বাসের মেয়ে। মা লিপি খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, আছিয়া সকালে ৭ মার্চের র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় দেখতে পায় স্কুল পোশাকের স্কার্টটির একটি হুক ছেঁড়া। স্কার্টের হুকটি সেলাই করে দিতে বললে রান্নার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান তার মা।
র্যালির সময় ঘনিয়ে আসায় এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারার আশঙ্কা দেখা দিলে ক্ষোভে ও কষ্টে ঘরে গিয়ে মাফলার জড়িয়ে আত্মহত্যা করে লুইস।
রান্না শেষ করে মা লিপি খাতুন ঘরে গিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এলাকাবাসী তার চিৎকারে মেয়েটিকে উদ্ধারের পর মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই ছোট্ট শিশু আছিয়ার দেহে প্রাণ আর নেই।
শিশু আছিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেয়া দাস, অন্যান্য শিক্ষক-সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আছিয়াদের বাড়িতে হাজির হন। সহপাঠিদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে সেখানকার আকাশ-বাতাস।
প্রধান শিক্ষক কেয়া দাস জানান, আছিয়া দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হলেও লেখাপড়ায় ছিল অত্যন্ত মনোযোগী এবং আজ তার র্যালি ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এমন দিনে তার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের সকলে খুবই কষ্ট পেয়েছি।
ছবি-সংগ্রহ।


