মাগুরানিউজ.কমঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর হবে ৩৬ ঘণ্টার। রাজধানীর বাইরে ভ্রমণ নেই, জাঁকজমক কোনো অনুষ্ঠানও থাকছে না। ৬-৭ জুন বাংলাদেশ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত।
ক্ষমতায় আসার পর এক বছরে মোদি এ পর্যন্ত ১৯টি দেশ সফর করেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় গেছেন। ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাস হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে মোদির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আগামী ৬ জুন সকালে মোদি ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রথমে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে ১৯৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাদের শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। এর পর মোদি ধানমণ্ডিতে জাতির জনক ও দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসা পরিদর্শন করবেন, যেখানে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছ থেকে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির পক্ষে মৈত্রী সম্মাননা পদক নেবেন নরেন্দ্র মোদি। এ পর্যন্ত ২২৬ ভারতীয়কে এ সম্মাননা দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন মোদি। এর মধ্যে মনোযোগ থাকবে বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী পারস্পরিক সহায়তা ইস্যু।
মোদি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের সরকারপ্রধান।
৭ জুন নরেন্দ্র মোদি ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করবেন। এখানে সাধারণত এ ধরনের ভিআইপি অতিথিরা যান না। কূটনৈতিক অঞ্চলে ভারতের হাইকমিশনের একটি দপ্তর (চ্যান্সারি) উদ্বোধন করবেন। ভারতে ফেরার আগে তিনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনের উদ্দেশে একটি বক্তৃতা দেবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও তরুণদের সামনে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব নিয়েও কথা বলবেন মোদি। সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসা অন-অ্যারাইভাল (পৌঁছানোর পর ভিসা) ও ই-ভিসা সুবিধা আরো জোরদার করবেন তিনি। সমুদ্র অর্থনীতি, জাহাজশিল্প ও সুন্দরবন রক্ষাসহ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে স্বাক্ষর করবে দুই দেশ।
তবে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মোদির ঢাকা সফর হবে সবার থেকে আলাদা।


