প্রসঙ্গ মাগুরা, ভাবনায় একটু চাওয়া – সোহানুজ্জামান খান

মাগুরানিউজ.কমঃ
11034211_16192003416452ui48_4267031593851699161_n copy

মাগুরা-১ (শ্রীপুর-মাগুরা সদর) আসনের উপ-নির্বাচন শেষ হলো। মাগুরানিউজের পাঠকদের জন্য মাগুরার সন্তান, তরুন সফল সংবাদকর্মী সোহানুজ্জামান খান নয়ন লিখেছেন মাগুরাকে নিয়ে তার চাওয়া-পাওয়া ও ভাবনার কথা।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদীয় আসন নং-৯১ এবং মাগুরা-১ (শ্রীপুর-মাগুরা সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব:) এ.টি.এম. আব্দুল ওয়াহ্হাব ৮০,৩৯১ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের ব্যবধানটা বিপুল হলেও উপ-নির্বাচন হওয়াই খুব বেশী আনন্দিত বা অবাক হওয়ার সুযোগ থাকছে না। কারণটাও সুস্পষ্ট, এইনির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থির নিকটতম প্রতিদ্বন্দীকে খুব বেশী হ্যাবি ওয়েট বললে ভুলই বলা হবে। তার থেকে বড় কথা হল ৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ ভোটের মধ্যে মাত্র ৩০ বা ৩৩ শতাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।

মেজর জেনারেল (অব:) এ.টি.এম. আব্দুল ওয়াহ্হাব মাগুরার রাজনীতিতে খুব বেশী পরিচিত মুখ না হলেও তিনি শ্রীপুরবাসী হওয়াই, উপ-নির্বাচন ঘিরে এই উপজেলার জনগণের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। শ্রীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছাও ছিল এলাকার কোনব্যক্তিকে সাংসদ হিসাবে দেখবার। এই সুপ্ত স্বপ্নকে তিনি বাস্তবে রুপ দিতে পেরেছেন বলে অনেকে হয়তো তা মনে করছেন। শ্রীপুরবাসীর প্রত্যাশার চাপটা তো থাকছেই, সাথে মাগুরা সদর। সদ্য নির্বাচিত সাংসদ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে।

নির্বাচন হওয়ার ঠিক তিনদিন আগে গত ২৬ মে সন্ধ্যায় সৈয়দ আতর আলী পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গনে মাগুরা ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগেরউদ্যোগে বর্তমান সময়ের ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীক মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব:) এ.টি.এম. আব্দুল ওয়াহ্হাব সুধীসমাবেশ ও মত বিনিময় সভা নামক ব্যানারে জেলার সাধারণ নাগরীকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সভায় জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্নসামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিককর্মী, নানা শ্রেণী পেশার মানুষসহ জেলা আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সভায় এই সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেদিন মাগুরাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন এবং প্রতিশ্রতি প্রদান করছেন জেলার উন্নয়নের ব্যাপারে।

৩০ মে, ২০১৫ আসন্ন সংসদ উপ-নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার আগে সকলের উপস্থিতিতে এমন উদ্দোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আনন্দিত করেছে এবং এমন সভা আমি সমর্থনও করি। যদিও উক্ত অনুষ্ঠানে এই উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলের প্রার্থিগণের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে, অন্য প্রার্থিদের উপস্থিতি হয়তো এমন সুন্দর আয়োজনকে, আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে পারত!

তবে, সাম্প্রতি মনের ভেতর যে শঙ্কার কালমেঘ তৈরী হচ্ছে তা খুবই কষ্টের। খুব ভাল করে দেখতে পাচ্ছি মাগুরার উন্নতি খুব ধীরগতির। এইজেলাই এত বড় বড় নেতা ও বিশিষ্টজন থাকতে কেনজানি জেলার উন্নয়ণ বারবার পিছিয়ে পড়ছে। যতটুকুই বা ছিল, তাও ভঙ্গুর বেহাল দশাই ঠেঁলেগুজে চলছে। জেলাকে একটু এগিয়ে নিতে আমার কিছু চাওয়া ও পরিকল্পনা আজ তুলে ধরলাম। এটা আমার একান্তই নিজেস্ব প্রস্তাবনা, প্রয়োজনবোধে এই তালিকা সংযোজন- বর্ধন-বিয়োজন হতে পারে…

নিম্নরূপঃ

১. ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর শেখ হাসিনা মাগুরা জেলাকে শতকরা ১০০ ভাগ নিরক্ষর মুক্ত জেলা হিসাবে ঘোষণা করলেন। বিকশিত মাগুরা, যা বাংলাদেশে প্রথম। আমি মনে করি একটি জেলার এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর হতে পারে না। আজও এই বিকশিতমাগুরাই আমাদের জেলার পরিচয় বহন করে। এই একটি বিষয় সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম। যাইহোক সময় এসেছে, এই বিকশিত মাগুরাকে আরো গতিশীল করে জেলার শিক্ষার হার বাড়িয়ে নেওয়া। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কোন বিকল্প নেই। এই একটি ঘোষণা আমার জেলাকে সবার সামনে মাথা উঁচু করে দিয়েছে।

২. কৃষি সম্প্রসারণ এবং ফলন বাড়ান। কৃষকের ফসলের ন্যায্য পাওনা এবং সহজ কিস্তিতে সার ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। কালোবাজারী সিন্ডিকেটের হাত থেকে কৃষককে রক্ষা করা।

৩. গ্যাস লাইন সংযোগ যতদ্রুত সম্ভব স্থাপন করা। কারণ, এই একটি কারণে জেলার শিল্প-কলকারখানার উন্নয়ণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আশারকথা হল মাগুরা-শ্রীপুর-শালিখা এলাকাতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু শিল্প-কলকারখানা তৈরী হচ্ছে। গ্যাল লাইন সংযোগ চালু হলে এই জেলাইতেইশিল্প-কলকারখানা ব্যাপকভাবে বিকাশ লাভ করবে বলে মনে করি।

৪. একটি মেডিকেল কলেজ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালযের কোন বিকল্প দেখছি না। এই দুটি বিষয়ের কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই বলে মনেকরি।

৫. মাদক এবং সন্ত্রাস দমন। জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজন বোধে কারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের নামের তালিকা প্রকাশকরে জেলার প্রধান ফটোগুলোতে টাঙ্গিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মাদকমুক্ত হলে মাগুরাতে সন্ত্রাস কমবে বলে মনে করি।

৬. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ এবং আন্ত:জেলা রেললাইন সংযোগ স্থাপন। একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ণ এবং রাস্তাঘাট প্রশস্ত করেযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে হবে।

৭. নবগঙ্গা নদী সংরক্ষণ এবং পৌর পার্ক স্থাপন। শহরের মধ্যে বহমান নদীর প্রধান অংশে ওয়াক-ওয়ে তৈরী করা। শহরের মানুষের চিত্তবিনোদন এবং হাঁটার কোন জায়গা নেই। এই ওয়াক-ওয়ে শহরের ব্যাপক সৌন্দর্যবৃদ্ধি করবে এবং বিনোদনের নির্মল জায়গাই রুপ নেবে।

৮. রাজনৈতিক সম্প্রতি, সাম্প্রদায়িকতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘঠাতে হবে। এবং জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা এবং নির্দিষ্টিসময়অন্তে জনগণের মুখোমুখি হওয়া। সেটা ৬ মাস বা ১ বছর পরপর হতে পারে।

সোহানুজ্জামান খান নয়ন

লেখক ও সাংবাদিক

(সম্পুর্নই লেখকের নিজস্ব মতামত। মতামতের জন্য কতৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: