মাগুরানিউজ.কমঃ
স্ত্রীর দেখিয়ে দেয়া জায়গা থেকে উত্তোলন করা হলো স্বামীর লাশ। গোয়াল ঘরের মেঝের নিচে পুতে রাখা হয়েছিল স্বামী রফিউদ্দিনের মৃতদেহ। এক মাস ৭ দিন পর পুলিশ সেখান থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ চিনিকলের কলোনীতে। নিহত রফিউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বারই পাড়া গ্রামে। ঘাতক স্ত্রী ফাতেমার বাবার বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বদিলাপাড়া গ্রামে। এই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৫) সবার বড়। মেয়ে স্বর্নালী (২২) মেজো ও ছেলে তামিম (১৩) ছোট।
স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর কলহের জের ধরে গত ২৬ মার্চ স্ত্রীর শাবলের আঘাতে নিহত স্বামীর লাশ প্রতিবেশি আনিচুর রহমান ভূইয়ার সহায়তায় গোয়াল ঘরের কাঁচা মেঝে খুঁড়ে পুতে রাখা হয়। পরে ঘরের মেঝে পাকা করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ও সহায়তাকারী আনিচুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার রফিউদ্দিনের স্ত্রীর বাবার বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে স্বর্ণালীর বিয়েও হয়েছে বলিদাপাড়া গ্রামে। এ কারণে স্ত্রী ফাতেমা চাইতেন রফিউদ্দিন কালীগঞ্জেই স্থায়ী নিবাস গড়ুক। কিন্তু নিহত রফিউদ্দিন তার কথা না রেখে নিজ গ্রাম মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বাড়ি নির্মাণ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো।
গত ২৬ মার্চ রফিউদ্দিন রাতে বাসায় ফিরলে একই কারণে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। তখন ফাতেমা বাড়িতে রুটি তৈরি করছিলেন। এক পর্যায়ে রফিউদ্দিন রুটি বানানোর বেলন দিয়ে ফাতেমাকে আঘাত করেন। সুযোগ বুঝে স্ত্রী ফাতেমা শাবল দিয়ে রফিউদ্দিনের পিঠে সজোরে আঘাত করলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। বাক-বিতণ্ডার শব্দ শুনে একই বিল্ডিং-এর ৩য় তলায় থাকা চিনিকলের কর্মচারি আনিচুর রহমান নিচতলায় নামলে ঘটনাটি তিনি দেখে ফেলেন। এসময় ফাতেমা তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাশ গুমের পরামর্শ চায়। আনিচুরের পরামর্শ অনুযায়ী সেদিন রাতেই রফিউদ্দিনের লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে গোয়াল ঘরের মেঝের নিচে পুতে রাখা হয়।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদের এক পর্যায়ে ২৬ মার্চ রাতে ফাতেমা তার স্বামী রফিউদ্দিনকে শাবল দিয়ে আঘাত করলে তখনই তার মৃত্যু হয় বলে ফাতেমা স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ এপ্রিল মোবারক চিনিকল কলোনীর ১নং ই-টাইপ বিল্ডিং এর সামনের গোয়ালঘর থেকে নিহত রফিউদ্দিনের লাশ উত্তোলন করা হয়।


