আজ বৃহস্পতিবার, অগাস্ট ২০, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- শ্রীপুরে সামাজিক আধিপত্যের জেরে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর, আহত ৫
- শ্রীপুরে কালবের উদ্যোগে মিউচ্যুয়াল এইড সার্ভিসেস ও লাইফ সেভিংসের বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান
- কবি কাজী কাদের নওয়াজের বাড়ি প্রাঙ্গণে সবুজ আন্দোলনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- শ্রীপুরে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে ব্লেড, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
- শ্রীপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত
- শ্রীপুরে ২ টি সার ও কীটনাশকের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি
- শ্রীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, রোগীদের দুর্ভোগ
- শ্রীপুরে ৪ টি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
- শ্রীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
- শ্রীপুরে আলোচিত শিশু রাজিয়া ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামীর মৃত্যুদণ্ড
মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
পাটের জীবনকাল বেশি, লম্বা, পেঁচিয়ে যাওয়া ও ফলন কম হওয়ার কারণে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার পাট চাষীরা সরকারি বিএডিসি কর্তৃক দেওয়া পাট বীজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। জমিতে চাষ করছেন না সরকারের দেওয়া বিএডিসির বীজ। চাষিরা ঝুঁকে পড়েছেন ভারতীয় এল সির মাধ্যমে আসা সেবায়ন জে,আর,ও ৫২৪, চক্র মার্কা জে আর ও ৫২৪, ও শঙ্খ মার্কা পাটের বীজের দিকে ।
এ মৌসুমে উপজেলায সর্বমোট ৯ হাজার ১’শ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে ।
উপজেলার পাট চাষীরা সরকারিভাবে উপজেলা থেকে দুইটি মাধ্যমে পাটের বীজ ও রাসায়নিক সার পেয়ে থাকেন। প্রথমত উপজেলা কৃষি অফিস, দ্বিতীয় উপজেলা পাট অধিদপ্তরের অধীনে পাট অফিস থেকে। এ মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এক কেজির ১৫’শ ৩০ প্যাকেট ও পাট অফিস থেকে ২৪’শ প্যাকেজ বীজ চাষীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলার কমলাপুর গ্রামের কৃষক জামাল মোল্লা ও ঘাসিয়ারা গ্রামের বক্কার মোল্লার সাথে কথা হলে তারা জানান, সরকারী বিএডিসির পাট বীজ জমিতে বপন করলে পাট দ্রুত বেড়ে অনেক লম্বা হয়ে যায় এবং লাল হয়ে যায় যা অত্যন্ত নরম এবং পাটের সাথে পাট পেঁচিয়ে যায়। আমরা সাধারণত যে সময় পাট কাঠি সে সময় পাট কাটলে এর ফলন কম হয় । এবং পাট কাটতে অনেক ঝামেলা হয় যে কারণে আমরা জমিতে এ পাট বিজ বপণ করিনা। যারা উপজেলা থেকে এ বীজ আনে তারা শুধুমাত্র রাসায়নিক সার পাওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলার একজন সচেতন কৃষক গোলাম আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবছর বিএডিসির কৃষি মন্ত্রণালয় ও পাট অধিদপ্তর থেকে চাষীদের জন্য কোটি কোটি টাকার যে পাটবীজ বিতরণ করা হয়। তা চাষীদের কোন কাজেই আসছে না ব্যাপারটি ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এ ব্যাপারে কাদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন খান জানান, সরকারী বিএডিসি থেকে যে পাট দেওয়া হয় সেটার প্রতি কৃষকদের অনীহা রয়েছে। এ মৌসুমে সরকারি বীজ নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হলেও কিছু কৃষক এসেছে। বাকি বীজের প্যাকেট গোডাউনে পড়ে আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সালমা
জাহান নিপা জানান, বিএডিসি কর্তৃক দেওয়া এ পাট বীজের জীবনকাল বেশি। অন্যান্য পাটের জীবনকাল সাধারণত ৯০ থেকে ৯৫ দিন হয়ে থাকে। আমরা বিএডিসি থেকে সরকারী যে বীজ দিয়ে থাকি সেটি জীবনকাল ১২০ থেকে ১২৫ দিন হয়ে থাকে। যে কারণে হয়তোবা চাষিরা এ বীজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলা পাট কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ্দাম
হোসেন জানান, এ বীজের প্রতি চাষীদের অনীহার কারণ যে এটি বপণ করলে অন্যান্য পাটের তুলনায় আশ শক্ত হতে বেশি দিন সময় লাগে। চাষিরা তাদের জমিতে অন্য ফসল ফলানোর জন্য তাড়াতাড়ি পাট কেটে ফেলে। যে কারণে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যদি সময় মতো পাট কাটা যায় তাহলে অন্য পাটের তুলনায় এর ফলন বেশি হবে। এ ব্যাপারে চাষীদের নিয়ে আমারা কর্মশালা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাষীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বিএডিসি থেকে যে পাটবীজ পাট চাষীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তা চাষীরা বপণ করেনা। ঘরেই রেখে দেন। আর প্রণোদনা হিসেবে যে সার পাওয়া যায় তা দিয়ে অন্য জমিতে ব্যবহার করা হয়।

