শ্রীপুরের বিরাট রাজা

নবম শতাব্দীতে মাগুরার জেলার শ্রীপুর এলাকা পাল রাজাদের অন্যতম নগর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। শ্রীপুর বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে প্রভাবিত ছিল। ধর্মপালের রাজত্বকালেই শ্রীপুর পাল রাজাদের কোন অধস্তন বিরাট রাজার রাজধানী ছিল। কথিত আছে যে, বিরাট রাজার স্ত্রীর নাম ছিল ‘শ্রী’। ‘শ্রী’ নাম থেকেই শ্রীপুরের নামকরণ হয়েছে বলে শোনা যায়। শ্রীপুরের অদূরে রাজাপুর গ্রামে ছিল বিরাট রাজার রাজমহল। কালের গর্ভে বিরাট রাজার কীর্তিসমূহ বিনষ্ট হয়ে গেছে। তবে নাট্যশালা, কয়েদ খানা ও ধনাগারের চিহ্ন আজও পরিদৃষ্ট হয়। ঐতিহাসিক হোসেন উদ্দীন হোসেন বলেন, রাজার অনেক হস্তী ছিল, সৈন্য ছিল’ যেখানে হস্তীর আস্তানা ছিল, সে গ্রামের নাম ‘পিলখানা’। কথিত আছে, বিরাট রাজার অসংখ্য গাভী ছিল। তিনি দুধ ভক্তি করতেন। রাণী ছিলেন তাম্বুল ভক্ত। গোয়ালপাড়া গ্রামে থাকতো রাজার অসংখ্য দুগ্ধবতী গাভী। সেই জন্যে এর নাম হয় গোয়াল পাড়া। রাণীর তাম্বুলের ক্ষেত ছিল বিরাট এলাকাবাপী। সারা বছর এই ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণে তাম্বুল হতো। তাম্বুল সংরক্ষণের জন্য এক শ্রেণীর লোক রাজার অধীনে ছিল। তাদেরকে বলা হতো বারুই। এই বারুইদের জন্য রাজা একটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেন বসবাসের জন্য, সে স্থানাটিকে বলা হয় বারুইপাড়া। বারইপাড়া আজ একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। বিরাট রাজার স্মৃতি বহন করে গ্রাম দুইটি প্রাচীন দিনের কথা স্মরণ করে দেয়। মহাকালের অমোঘ বিধানানুসারে শ্রীপুরের বিরাট রাজারও পতন হয়। কিন্তু কিভাবে কখন কার নিকট বিরাট রাজার পতন ঘটে তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। ‘মাগুরা সন্দর্থ প্রণেতা মনোরঞ্জন বিশ্বাস’ গজনী বংশীয় সুলতান গিয়াস উদ্দীন কর্তৃক বিরাট রাজার পতন ঘটে’ কথা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখিত তথ্যটি সঠিক বলে মনে হয় না। কারণ গজনী বংশে (সুলতান মাহমুদের বংশ) গিয়াস উদ্দীন নামে কোন সুলতানের উল্লেখ পাওয়া যায় না। তাছাড়া সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের পরে যারা উপমহাদেশে এসেছেন তাদের নাম খসরু শাহ্ ও খসরু মালিক। তারা ছিলেন গজনী বংশের অত্যন্ত দুর্বল শাসক এবং তাদের রাজত্ব পাঞ্জাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। দ্বিতীয়ত গজনীর অপর বংশের নাম ঘোরী বংশ। গাজনীর এই ঘোরী বংশের প্রথম শাসক গিয়াস উদ্দীন মুহম্মদ এবং ৩য় শাসক গিয়াস উদ্দীন মাহমুদ। তারা কখনও ভারত বিজয় করতে আসেননি। উক্ত বংশের মুহম্মদ ঘোরী ভারত বিজয় করেছিলেন। সুতরাং গজনীর কোন শাসকের নিকট বিরাট রাজা পরাজিত হয়েছিলেন বলে মনে হয় না। যা হোক, মাজুদয়ার রণাঙ্গণে পরাজিত হয়ে বিরাট রাজা আত্মহত্যা করেন বলে শোনা যায়। কালের সাক্ষী হিসেবে ‘মুজদিয়া’ গ্রাম মাজুদিয়া যুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: