মাগুরানিউজ.কমঃ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মাগুরার ‘শ্রীপুর বাহিনী’র অবদান ছিলো অবিস্মরণীয়। এই বাহিনীর দুঃসাহসিক অভিযান বিস্তৃত ছিলো ঝিনাইদহের গাড়াগঞ্জ থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পর্যন্ত। শ্রীপুর বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের একটি ছিলো বর্বর পাক সেনাদের দোসর, ত্রাস সৃষ্টিকারী রাজাকার চাঁদ খাঁকে হত্যা মিশন।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই মিশনে গুলিবিদ্ধ হয় চাঁদ খাঁ। পরে রাজাকার চাঁদ খাঁকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন রাজবাড়ীর কৃষকরা।
তৎকালীন শ্রীকোল ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা আকবর হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিলো ‘শ্রীপুর বাহিনী।’ তাই এই অধিনায়কের নামে বাহিনীটি ‘আকবর বাহিনী’ নামেও পরিচিত ছিলো। সম্প্রতি আকবর হোসেন জানালেন রাজাকার চাঁদ খাঁকে হত্যার সেই আলোচিত ঘটনা।
আকবর হোসেন জানান, তৎকালীন রাজবাড়ী মহকুমার রামদিয়া সোনাপুরের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলো বিহারী চাঁদ খাঁ। পাক হানাদার বাহিনীর এই দোসর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। তার রাজাকার বাহিনী বাঙালি নিধনে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করেছিলো পাক সেনাদের। তারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী তৎপরতা চালায় এবং এলাকায় অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। এলাকা থেকে যাতে কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে না পারে সে জন্য বিভিন্ন পরিবারে গিয়ে হুমকি দিতে থাকে। ‘শান্তি’র নামে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এই চাঁদ খাঁর অপতৎপরতার খবর গিয়ে পৌঁছে শ্রীপুর বাহিনীর কাছে। তাই আকবর হোসেনের নেতৃত্বে একাত্তরের অক্টোবরের শেষদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা চাঁদ খাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এরপর অভিযান চালানো হয় চাঁদ খাঁর বাড়িতে। মুক্তিযোদ্ধারা তার বাড়ি আক্রমণ করলে বাড়ি থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। তীব্র প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে চাঁদ খাঁর এক ছেলে নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় চাঁদ খাঁ।
এদিকে চাঁদ খাঁ গুলিবিদ্ধ হলেও তার মৃত্যু হয়নি। তাকে চিকিৎসার জন্য পরদিন নেয়া হচ্ছিলো শহরে। এ অবস্থায় চাঁদ খাঁকে দেখে ফেলেন মাঠে কর্মরত কৃষকরা। এরপর কৃষকেরা আহত চাঁদ খাঁকে হাতের কাস্তে দিয়েই কুপিয়ে মেরে ফেলেন। আর এভাবেই স্বাধীনতা বিরোধী পাক সেনাদের ঘনিষ্ঠ দোসরের শাস্তি কার্যকর করা হয়। এ ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল অনেক গুণ বেড়ে যায়।

