যেভাবে আবিস্কৃত হলো মাগুরার সিদ্ধার্থ শংকরের ‘গ্যাস্ট্রোমিটার’

মাগুরানিউজ.কমঃ 

fe42ic3ndfg
জিহ্বায় ধাতব পাত ছোঁয়ানো মাত্রই মনিটরে ভেসে উঠছে একটি সংখ্যা, বলে দিচ্ছে রোগীর দেহের এসিডিটির মাত্রা। মাগুরার পল্লী ডাক্তার সিদ্ধার্থ শংকর বিশ্বাসের অভিনব আবিষ্কার ‘গ্যাস্ট্রোমিটার’। সিদ্ধার্থ শংকরের গ্যাস্ট্রোমিটারটি সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অব প্যাটেন্টস, ডিজাইন-এর ট্রেডমার্ক’ দপ্তর থেকে তার আবিষ্কৃত ডিভাইসটির স্বীকৃতি দেওয়া হলো। সরকারের মিনিস্ট্রি অব ইন্ড্রাস্ট্রিজ এর ‘ডিপার্টমেন্ট অব প্যাটেন্টস, ডিজাইন এর ট্রেডমার্ক’ দপ্তর তার আবিষ্কৃত ডিভাইসটি ১০০৫৪২২ নম্বর যুক্ত প্যাটেন্ট-(পিডাব্লিউ)/এপ্লিকেশন (ইস্যু)/৪২১৮, তারিখ-০২/১২/২০১৪ হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।
কিভাবে আবিস্কৃত হলো ‘গ্যাস্ট্রোমিটার’ সে বিষয়ে সিদ্ধার্থ শংকর বলেন, চিকিৎসা ছাড়াই মাত্র তিন মাস বয়সে মারা যায় ডা. সিদ্ধার্থের ছেলে সুমন। চিকিৎসকরা এই অকালমৃত্যুর জন্য পরিপাকজনিত ত্রুটি ও পাকস্থলীতে এসিডের স্বল্পতাকে দায়ী করেছিলেন।
তখন থেকেই মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের পল্লী ডাক্তার সিদ্ধার্থ শংকরের ভেতর একটি ভাবনা বেড়ে উঠেছে। দেশে প্রাথমিক অবস্থায় সব জটিল অসুখের পরীক্ষার সুযোগ আছে, অথচ গ্যাস্ট্রিকের নেই। এ ভাবনা থেকে শুরু হয় গবেষণা। দুই বছরের গভীর সাধনায় আবিষ্কার করেন ‘গ্যাস্ট্রোমিটার’, যা দিয়ে গ্যাস্ট্রিক রোগীদের গ্যাসের মাত্রা নিরূপণ করা যাচ্ছে সহজেই।
গ্যাস্ট্রোমিটার থেকে তার দিয়ে যুক্ত একটি ধাতব পাত রোগীদের জিহ্বার স্পর্শে আনার সঙ্গে সঙ্গে মিটারের ডিজিটাল মনিটরে গ্যাস্ট্রিকের মাত্রা দেখা যায়। সিদ্ধার্থ শংকর বিশ্বাস বলেন, তাঁর যন্ত্র দিয়ে যাঁরা গ্যাস্ট্রিকে ভুগছেন তাঁদের পাকস্থলীতে কী পরিমাণ এসিডিটি আছে তা সহজেই মাপা সম্ভব। তিনি জানান, পাকস্থলীর অসুখের একটি বিশেষ পর্যায়ে গিয়ে এন্ডোসকপির মাধ্যমে তা নির্ণয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু এ চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও গরিবদের নাগালের বাইরে। তাই গ্যাস্ট্রিকের প্রাথমিক চিকিৎসা হয় অনেকটা অনুমাননির্ভর।
সিদ্ধার্থ আরো জানান, তাঁর যন্ত্রে গ্যাস পরিমাপের একক হচ্ছে ইলেক্ট্রন সাপোর্ট পয়েন্ট (ইএসপি)। তিনি গবেষণায় দেখেছেন, পাকস্থলীতে ইএসপির পরিমাণ নির্ধারণ করা না গেলে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। যেমন কারো পাকস্থলীতে ইএসপির পরিমাণ ২৩-৩০.৯ পর্যন্ত থাকলে তা স্বাভাবিক হিসাবে ধরা যায়। এ জন্য ওষুধের দরকার নেই। ইএসপি যদি ২৩-এর নিচে থাকে সে ক্ষেত্রে তার এসিডিটি ‘অত্যন্ত কম’ চিহ্নিত করে খাদ্য তালিকা পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিপাকে সহায়ক ওষুধ দিতে হবে। ইএসপি যদি ৩০.৯-এর বেশি থাকে তবে সেটা হবে মাত্রাতিরিক্ত এসিডিটি। সে ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচ পয়েন্টের জন্য একেক মাত্রার ওষুধ দিতে হবে। গ্যাস্ট্রোমিটারে ইএসপি নির্ধারণ করে এলাকার অনেক রোগীকে ওষুধ দিয়ে ভালো ফল পেয়েছেন বলে দাবি করেন সিদ্ধার্থ। গোবিন্দপুরের সুকুমার বাড়ৈ, অনিতা রানী অধিকারীসহ বেশ কয়েকজন গ্যাস্ট্রোমিটারের হিসাব অনুযায়ী ওষুধ সেবনে আগের চেয়ে ভালো ফল পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
১৯৯৩ সালে এসএসপি পাস করার পর পল্লী চিকিৎসার ওপর কলকাতায় দুই বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেন সিদ্ধার্থ। এরপর দেশে ফিরে নিজ গ্রামে চিকিৎসা শুরু করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
%d bloggers like this: