মাগুরানিউজ.কমঃ
ক্ষমতা ও আধিপত্য নিয়ে দুই নেতার দ্বন্দ্বে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝামা বাজারের বহু ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চার দিন বন্ধ রয়েছে। পলাশবাড়ীয়া ইউপির আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. রেজাউল করিম চুন্নু ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে তিন দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ঝামা বাজারের ২০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। পরিস্থিতি সামলা দিতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে।
এই ঘটনার পর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা দোকানের মালপত্র নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৫০ ব্যক্তিকে। গ্রেফতার আতঙ্কে অধিকাংশই গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ ১৮ জনকে আটক করেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে না পারায় ব্যবসায়ী-ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ঝামা বাজারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী লুটের আশঙ্কায় দোকানের মূল্যবান মালপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছেন। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় বাজারের বহু ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। দেখলে মনে হবে বাজারে হরতাল চলছে। একটি দোকানও খোলা নেই। হামলা-ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালপত্র ও আসবাব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দোকানপাট খুলতে পারছেন না। লুটের ভয়ে মালপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। আবার মামলায় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সংঘর্ষে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ নেতা এম. রেজাউল করিম চুন্নু ও আলাউদ্দিন ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।




