মাগুরায় সজনে’র জয়গান, সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রবাসেও

মাগুরানিউজ.কমঃ

104863_1

বসতবাড়ির আশপাশে অনাদরে অবহেলায় বেড়ে উঠা সজনে এখন আর ফেলনা নয়। সবজি হিসেবে উপাদেয় এবং অসাধারণ ভেষজগুণের কারণে সজনে ডাটার এখন ব্যাপক চাহিদা।

সজনের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কৃষকেরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজনের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

এখানে উৎপাদিত সজনে ডাটা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দক্ষিণের ১০ জেলায়। বিক্রয় করে চাষীদের ঘরে আসছে ভালো মুনাফা।

জানা গেছে, মাগুরা সদর, নহাটা, বিনোদপুর, রাজাপুর, বালিদিয়া, বাবখালি, পলাশবাড়িয়া ও দীঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আগে কৃষকেরা বসতবাড়ির আশপাশে নিজেদের খাওয়ার জন্য সজনে গাছ রোপণ করতেন। অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে উঠত সেই গাছ। তা থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনদের জন্য পাঠানো হতো সেই সজনে। 

কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন। সজনে এখন ভেষজ দামি সবজির স্থান লাভ করেছে।

মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শজনে বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এখন দাম কমে গেলেও প্রতি কেজি সজনে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর সজনের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় তারা বসতবাড়ির আশপাশে ও ক্ষেতের আইলে সজনে গাছ রোপণ করছেন। অন্য সবজি বিক্রি করতে বাজারে যেয়ে বসে থাকতে হলেও  সজনে ব্যাপারীরা বাড়ির উপর এসে চড়া দামে কিনে নিয়ে যায়।

ব্যাপারীরা ঢাকাসহ বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, নড়াইল, ঝিনাইদাহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় চালান করছেন সজনে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বসন্তের আবাহনে ফুলে ফুলে শুভ্র হয়ে উঠে সজনে গাছের প্রতিটি শাখা। বকের মতো সাদা নতুন ফিকে সবুজ পাতার পটভূমিতে অজস্র ফুল চোখে প্রশান্তির স্নিগ্ধতা বুলিয়ে দেয়। ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্রের শুরুতে কঁচি সজনে ডাটা খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।

সাধারণত শাখা কেটে রোপণ করার মাধ্যমেই সজনের বংশবিস্তার করা হয়। রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করা যায়। সজনে ডাটার পাশাপাশি ফুল ও পাতা সবজি হিসেবে উপাদেয় এবং জনপ্রিয় বটে।

সজনে সবজি হিসেবে যেমন উপাদেয়, এর ভেষজগুণও তেমন অসাধারণ। মৌসুমি নানা রোগব্যাধির নিরাময় ও শরীরে এসব রোগের প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে বসন্ত, জন্ডিস, মূত্রসংক্রান্ত সমস্যায় প্রাচীনকাল থেকে সজনের নানা অংশের ব্যবহার করে আসছেন ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা।

সদরের কৃষক, শহীদ উদ্দিন জানান, পরিকল্পিতভাবে পতিত জমিতে সজনে চাষ করে তিনি এ বছর প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এ জন্য তাকে তেমন ব্যয় করতে হয়নি।

বালিদিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, মূল্যবান ভেষজ হিসেবে সজনের কদর দিন দিন বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে দাম। এতে কৃষক সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, উপজেলায়  সজনে আবাদের সঠিক পরিসংখ্য্যান পাওয়া যায় না। তবে এমন কোন বাড়ি নেই যেখানে ২-৩টি সজনে গাছ না আছে।

সজনের কদর বৃদ্ধি এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পরিকল্পিতভাবে সজনের আবাদ করছেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: