মাগুরানিউজ.কমঃ
বৃষ্টি এলেই নেচে ওঠে মানুষের মন। আউলা বাতাসে বাউলা হয়ে যায় সৃষ্টিশীল অন্তর। যে গান জানে না_ মনের অজান্তে সেও গুনগুন করে গেয়ে ওঠে। এই হলো বৃষ্টি। বৃষ্টি মানেই রোমান্টিক কাল।
কবির ভাষায়_
‘এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘন ঘোর বরিষায়’।
যা বলা যায় তা কি শুধু কবিই জানেন? না, এটা শুধু কবির উপলব্ধি নয়। এর সঙ্গে যুক্ত সব কবি-হৃদয়, সব প্রেমিক-আত্মা। আর তাই বৃষ্টির ছন্দময়তায় ময়ূরীর পেখম মেলার মতো মেলে যায় মানুষের অন্তর। ভালোবাসা ভালোলাগার উদ্দামতায় জেগে ওঠে তারা, মেতে ওঠে তারা। সব মানুষই যেন তখন কবি, তখন প্রেমিক।
আমরা, এখন যারা নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত, তাদের অনেকেই উঠে এসেছি মফস্বল শহর কিংবা গ্রাম থেকে। মফস্বল শহরের সঙ্গে গ্রামের যে নিবিড় নৈকট্য, তাতে বৃষ্টির উপলব্ধি প্রায় পাশাপাশি, কাছাকাছি। গভীর রাতে টিনের চালে বৃষ্টির মিষ্টিমধুর টাপুর টাপুর ছন্দ শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ার স্মৃতি যাদের ঝুলিতে জমা আছে তারাই জানেন সেই সুখানুভূতি, সেই মাদকতার কথা।
শহরের বৃষ্টি আর গ্রামের বৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য অনেক। শহরের বৃষ্টি দেখা যায়, ছোঁয়া যায় না। এ বৃষ্টির মধ্যে উদ্দামতা নেই, উচ্ছলতা নেই; আছে যন্ত্রণা। গ্রামের বৃষ্টি অন্যরকম। সে বৃষ্টি ছোঁয়া যায়, উপলব্ধি করা যায়। সে বৃষ্টির সঙ্গে ভেসে যাওয়া যায় দূরে কোথাও, অন্য কোনো খানে, মেঘসাম্পানে ভেসে ভেসে।
বোদ্ধারা বলেন, বৃষ্টিতে সৃষ্টির উৎসব। সত্যিই তাই। এমন দিনে স্রষ্টা-হৃদয় মেতে ওঠে। কবি রচনা করেন কবিতা, সঙ্গীতকার সঙ্গীত। প্রেমিক যেমন খুলে দেন হৃদয়-দরজা ঠিক সেইভাবে প্রকৃতিও ডালা খোলে অপরূপ রূপ মাধুর্যের। সবুজে সবুজে ভরে ওঠে চারদিক। কামিনী-গন্ধরাজের আকুল করা মৌ মৌ সুবাস। নদীর শরীরে বাঁধভাঙা যৌবন। উদ্দাম বাতাসে ‘বদর-বদর’ বলে পাল তুলে মাঝিদের নৌকা ছেড়ে দেয়া। এ এক অচিন্তনীয়, অভাবনীয় দৃশ্যপট।


