মাগুরানিউজ.কমঃ
শ্রীপুর উপজেলার ওয়াপদা মোড় এলাকায় আজ রবিবার দুপুরে ইমরান হোসেন (৪০) ও শাওন ( ২৫) জাল টাকা কেনা-বেচা চক্রের দুই সদস্যকে জনতা ধরে শ্রীপুরের নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ ২৯ লাখ টাকা ও সাদা কাগজ কেটে ৫০০ টাকার নোটের সাইজে সাজানো কিছু বান্ডিল বাধা একটি প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে।
আটক দুইজনের মধ্যে ইমরান নিজেকে ফরিদপুরের জয়নাব বিকাশ ডিষ্ট্রিবিউশনের সহকারি আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসাবে দাবি করেছে। অন্যদিকে শাওন তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরের বরালদাহ গ্রামে বলে জানিয়েছে।
মাগুরার সহকারি পুলিশ সুপার সুর্শন কুমার রায় জানান, তাদের ধারনা ওই দুইজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নগদ টাকার কেনাবেচা চলছিল। আজ রবিবার শাওন নামের ওই যুবক কামারখালী এলাকায় ৬০ লাখ টাকার জাল টাকা দেবার কথা বলে নগদ ২৯ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জাল টাকার বদলে শাওনের দেয়া প্যাকেটের প্রতি বান্ডিলে ইমরান উপরে ৫০০ টাকার একটি করে নোট নিচে সব সাদা কাগজ দেখতে পায়। এসময় সে শাওনকে ধাওয়া করে পেছনে ছুটতে থাকলে ওয়াপদা এলাকায় এসে টাকার ওই দুই প্যাকেটসহ উভয়ই জনতার হাতে ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।
এদিকে ইমরান দাবি করেছে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শাওন তাকে যে কোন অংকের টাকা দিগুণ করে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে আসছে। অবশেষে তার কথা বিশ্বাস করে গতকাল রবিবার সে এ প্রতারনার শিকার হয়।
অন্যদিকে শাওনের দাবি, সে শিশির নামে বাংলালিংকের এক কর্মকর্তার কথামত ওই প্যাকেটটি দিয়ে ইমরানের কাছ থেকে ওই টাকা নিতে এসেছিল।
ফরিদপুরের জয়নাব ডিস্ট্রিবিউশনের মালিক জাহিদ হোসাইন বলেন, ‘ধৃত ইমরান আমার বিকাশ এজেন্টের কর্মকর্তা সকালে কামারখালী এলাকায় এক সাব এজেন্টকে ৩০ লাখ টাকা দেবার জন্য তাকে তিনি সেখানে পাঠিয়েছিলেন। জাল টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছূ জানেন না’।
তবে মনিবুর হোসেন, আতিয়ার রহমানসহ ওয়াপদা এলাকার অনেকের ধারনা ওই বিকাশ এজেন্ট অধিক লাভের আশায় এ ধরনের জাল টাকার আমদানি করে আসছেন ও গ্রাহকের টাকার ভাঁজে এগুলো ঢুকিয়ে দেন। যা বড় ধরনের প্রতারণার কারণে আজ হাতে নাতে ধরা পড়ে গেছে।


