মাগুরায় ফুলচাষে সফল উজ্জল

মাগুরানিউজ.কমঃ

Flower-Cultivation

ফুলের বাণিজ্যিক চাষে নিজেকে সফল চাষি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মাগুরার মোবাশ্বের আলী উজ্জল নামে এক যুবক। তার হাত ধরেই মাগুরায় প্রথম বারের মতো শুরু হয়েছে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ। সদর উপজেলার শিবরামপুরের বাসিন্দা উজ্জলকে এখন অনেকেই ফুল উজ্জল বলে চেনেন সবাই। ফুল চাষে তিনি অনেকের কাছেই এখন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার দেখা দেখিতে অনেকেই এখন ফুলচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

মোবাশ্বের আলী উজ্জ্বল জানান, ফুলের প্রতি ছেলেবেলা থেকেই তার অদম্য ভালবাসা ছিল। যা থেকেই তিনি এ ফুল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। আত্মীয়তার সূত্রে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ফুল চাষের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে গত মৌসুমে তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে প্রথম গাঁদা ফুলের চাষ করেন। যা থেকে খরচ বাদে মোটামুটি বেশ কিছু টাকা লাভ হয়। পরবর্তীতে আরও  ১শ শতাংশ জমিতে এই চাষ সম্প্রসারিত করেন তিনি। ক্ষেতে ধান-পাটের আবাদের পরিবর্তে ফুলের আবাদ প্রতিবেশিদেরও আকৃষ্ট করছে।

ফুলবাগানের শ্রমিকরা জানালেন, নতুন ধরনের এ চাষে সাধারণ চাষের তুলনায় বেশি আয় হয়। এছাড়া ফুলের বাগানে কাজ করাতেও রয়েছে বাড়তি আনন্দ। ফরিদপুরের ফুল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে আমরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছি।” সম্প্রতি মোবাশ্বেরের ফুল ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, গোটা মাঠ জুড়ে গাঢ় ও সাধারণ হলুদ জাতের গাঁদা ফুলের সমারোহ। সেখানে কাজ করছে বেশ কিছু অভিজ্ঞ বাগান শ্রমিক।

মোবাশ্বের আলী উজ্জ্বল আরও বলেন, গত বছর ৫০ শতক জমিতে ফুল চাষ করার পর এ বছর তা বাড়িয়ে দেড় একর করেছি। এ বছর ক্ষেতে ফুলের যে সমারোহ হয়েছে তাতে আশা করছি বিক্রি ভাল হবে। তবে স্থানীয় বাজার না থাকায় ও ফুল পরিবহনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ফুলের বাজার মূলত বিভিন্ন উৎসব নির্ভর হওয়ায় অনেক সময় ফুল নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় আমাদের। এছাড়া অনেক সময়ই ফুল নিয়ে আমাদের গাড়ি আরিচা ফেরিঘাটে আটকে যায়। বেশিক্ষণ ফেরিঘাটে আটকে থাকলে ফুল নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে অনেক সময়ই ব্যাপক লোকসানের ঝুঁকি নিয়েই আমাকে ফুল চাষ করতে হচ্ছে।” মোবাশ্বেরের প্রতিবেশি হারুন-অর-রশিদ  জানান, যেহেতু ধান, পাট চাষে প্রচুর খরচ করতে হয়। সে তুলনায় ফসলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মোবাশ্বেরের মত আমরাও ফুল চাষ করবো বলে ঠিক করেছি। আশা করছি আগামী মৌসুমেই ফুল চাষ শুরু করবো।

মোবাশ্বেরের ফুল চাষের পেছনে প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন মাগুরা পৌর এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, মাগুরায় ব্যাপকভাবে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ নেই। কিন্তু ফুল একটি সম্ভবনাময় অর্থকরি কৃষি পণ্য। মাগুরার মাটি ফুল চাষের জন্যে খুবই উপযোগি। সে কারণেই কৃষকদের উদ্যোগী করে তোলা হচ্ছে। মোবাশ্বেরের মাধ্যমে কার্যত এটির গোড়া পত্তন হয়েছে।

তবে বাজার ও পরিবহণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারলে মাগুরায় ফুলচাষ খুবই লাভজনক একটি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
%d bloggers like this: