মাগুরানিউজ.কমঃ
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাগুরার মহম্মদপুরের বাবুখালীর পাড়ুয়ারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, স্কুলের নারী শিক্ষকদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন কমিটির সভাপতি। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের কক্ষে আটকে রেখে তালা মেরে চাবি নিয়ে চলে যান তিনি। পরে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হামলাকারী ও ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি তপন কুমার ঘোষকে দুটি ধারালো অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী ফকিরকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তপন পার্শ্ববর্তী রামকৃষ্ণপুর গ্রামের অধির কুমার ঘোষের ছেলে।
হাসপাতালে ভর্তি প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী ফকির জানান, পাড়য়ারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি তপন কুমার ঘোষ বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক কাজল রেখাকে গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ অন্য তিনজন শিক্ষক তাকে বাধা দেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রধানশিক্ষকের ওপর হামলা চালান। তার হামলায় প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী গুরুতর আহত হন।
এক পর্যায়ে তপন সকল শিক্ষককে স্কুলের একটি কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চাবি নিযে চলে যান। এ সময় স্কুলের দুই নারী শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বই-খাতা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘণ্টা খানেক পর খবর পেয়ে এলাকার লোকজন বাবুখালী পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় শিক্ষকদের মুক্ত করেন। পরে তপন কুমার ঘোষকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে অভিযুক্ত তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীর সঙ্গে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জন্য এ ঘটনা ঘটেছে।’
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোকছেদুল মোমিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছে।’
মহম্মদপুর থানার ওসি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’


