মাগুরানিউজ.কমঃ
দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় মাগুরা জেলায় বাড়ছে সরিষা চাষ আর সেই সাথে বাড়তি হিসেবে মৌ চাষকে ঘীরে জমে উঠেছে কর্ম চাঞ্চল্য। ফলে কৃষকর আরো উৎসাহিত হচ্ছে সরিষা চাষে। মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা, মালঞ্চি, বালিয়াডাঙ্গা, বেঙ্গা, বেরইল তেঘরিয়াসহ ৩৫টি গ্রামের সরিষা ক্ষেতের উপর নির্ভর করে মোট ৪৮ জন নিবন্ধিত খামারী ছাড়াও আরো অনেকে মৌ চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। চাষিদের ধারনা এবার জেলায় প্রায় ৯০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশী।
এ চাষকে আরো সম্প্রসারিত করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও মধু রফতানি করা সম্ভব।আমের ও লিচুর মৌসুমসহ বিভিন্ন ফুল থেকে বছরের প্রায় ৮ মাস চাষীরা মধু সংগ্রহ করে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৫০০টি পরিবার মৌ চাষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
চাষিরা জানান, সরিষা মৌসুমে বেশী মধু উৎপাদন হওয়ায় উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে অনেক কম দামে মধু বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে সাধারণত মৌ মাছির নানাবিধ রোগব্যাধি হয়ে থাকে। ফলে প্রচুর মাছি মারা যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় ভাবে তারা কোন পরামর্শ বা সহযোগিতা পান না। চাষিদের তখন নিজস্ব ধারনা থেকে মাছিকে বাঁচিয়ে রাখার নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়।
খামারীদের দাবী স্থানীয়ভাবে পরামর্শ পাওয়া যায় এমন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে সুদ বিহীন ঋণ সুবিধা পেলে আরো অনেক বেকার যুবক এ পেশায় এগিয়ে আসবে। বিসিক ইতিমধ্যে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১৯৮ জন নারী-পুরুষকে মৌচাষের উপর প্রশিক্ষন দিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৮ জন ইতিমধ্যে মৌ চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা ২৫ থেকে ৩০ টি মৌবক্স নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব বাস্কের ফ্রেম সাজিয়ে রাখা হয়। উক্ত ফ্রেমে রানী মৌমাছি ঢুকিয়ে দিলে অন্যান্য মৌমাছি ঢুকে চাক তৈরী করে মধু সঞ্চয় করে। এখান থেকে চাষিরা মধু সংগ্রহ করে ড্রামের ভিতরে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা চাকা ঘুরিয়ে মধু সংগ্রহ করে।
সরকার ও কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে একদিকে কৃষকরা উপকৃত হবে অন্যদিকে মাগুরার মত জেলায় প্রায় ১শ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় ৬ হাজার ৪শ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন করে বিদেশে রফানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

