অনিয়মের মাধ্যমে জনগণের পকেট থেকে বছরে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা ঘাট ইজারাদাররা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে মধুমতি নদী প্রবাহিত। এই নদীর জেলার সীমানায় দশটি খেয়া ঘাট রয়েছে। এসব ঘাট হচ্ছে কালিশংকরপুর, ঝামা, পাচুড়িয়া, নদীয়ারচাদ, এলাংখালী, ধুলজুড়ি, সিরগ্রাম, নওপাড়া, তারাপুর ও চরসেলামতপুর খেয়াঘাট।
নবগঙ্গা নদীর খেয়াঘাটগুলো হচ্ছে, বিনোদপুর, আরোদদিয়া, রাজাপুর, নহাটা, শত্রুজিতপুর, গঙ্গারামপুর,পলিতা, বেরোইল, জয়রামপুর ও রতডাঙ্গা।
সরেজমিনে বিভিন্ন খেয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়মে ঘাটের নৌকা ভাড়া মাত্র দুই টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ঘাট ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারীতায় তা নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। আবার কাদা পানি ডিঙ্গিয়ে নৌকায় ওঠানামার জন্যে ঘাট পর্যন্ত আসতে জনগণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
এলাংখালি ফেরি ঘাটে প্রায় দশ বছর পড়ে ছিল কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফেরি ও পন্টুন। ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন হওয়ার পর ফেরি অন্যত্র চলে গেছে।
ভূক্তভোগিরা জানান, মহম্মদপুর উপজেলা সদর থেকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলা হয়ে ঢাকার সঙ্গে সহজ যোগাযোগের জন্যে এ এলাকার মানুষ এ ঘাটটিই ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারি বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ও সাতৈর হাটে এ এলাকার মানুষের ব্যবসায়ীক লেনদেন বেশী। তাই মহম্মদপুরসহ মাগুরা জেলার একটি বড় অংশের লোকজন এসব ঘাট দিয়ে আসা-যাওয়া করেন।
এছাড়া নদী বিচ্ছিন্ন জনপদ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষকে নিত্য দিনের প্রয়োজনেই আসতে হয় মহম্মদপুর সদরে।
একহাটু কাদা পানি ভেঙ্গে ট্রলারে উঠতে হচ্ছে কিংবা নেমে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা সবাইকেই পোহাতে হচ্ছে একই দুর্ভোগ। অথচ ইজারার শর্ত অনুযায়ী ঘাট সংস্কার করে জনগণের যেন কোনো ভোগান্তি না হয় এই শর্তেই জেলা পরিষদের কাছ থেকে এ ঘাটটি ইজারা নিয়েছে ইজারাদাররা।
একই সঙ্গে ঘাটের দুপাশে অনুমোদিত পারনী হারের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়ার শর্ত থাকলেও তা অমান্য করা হচ্ছে। মালপত্র যানবাহন ও মানুষ পারাপারে আদায় করা হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি অর্থ।
সূত্র জানায়, প্রতি বাংলা বছরের শুরুতে জেলা পরিষদ ঘাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করে। ইজারা নিতে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ।
এলাংখালি ঘাট পার হতে আসা বৃদ্ধ রওশন মোল্যা জানান, নদীর এপাড়ে আমার মেয়ের বিয়ে দেওয়া আছে। তাই মাঝে মধ্যেই নাতি নাতনীদের দেখতে এপাড়ে আসতে হয়। তাছাড়া নদীর চরে আমার কিছু চাষের জমিও আছে। কিন্তু নৌকা পাড় হওয়ার পর ঘাটে একহাটু কাদা ও পানি থাকায় নৌকায় ওঠানামা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নদী পাড় হতে খুবই কষ্ট হয়।
মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান খেয়াঘাটে অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঘাটের ট্রলার নৌকার চালক আব্দুস সবুর জানান, বৃষ্টির কারণে ঘাটে কাদা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঘাটের ইজারাদারের সিদ্ধান্ত।
ঘাট ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শরিফুল ইসলাম জানান ‘জনগণের যাতায়াতের জন্যে ঘাট ইজারাদারদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া যে কোন অনিয়মের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে কিংবা অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলে আমরা তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’


