মাগুরার মাঠে গুপ্তধন: দরিদ্রদের ‘শাপে বর’

মাগুরানিউজ.কমঃ

mice-1416892698

ফসলশূন্য মাঠে একদল শিশু-কিশোর মাটি খুঁড়ছে। কোন গুপ্তধন পাওয়ার আশায়।। আর সে গুপ্তধন হলো মাটি খুঁড়ে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করা। ইঁদুরের গর্তে পাওয়া ধানে অভাব জয় করেছে এসব ইঁদুর কপালিরা। ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহের এমন দৃশ্য এখন হরহামেশাই চোখে পড়ে মাগুরার বিভিন্ন ফসলের মাঠে।

প্রতিবছর আমন ধানের মৌসুমে বেড়ে যায় ইঁদুরের উপদ্রব। ইঁদুর ধানের শিষ কেটে নিয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য হিসাবে গর্তে মজুদ রাখে। দেশি জাতের বোনা আমন ধানের গাছ মাটিতে পড়ে যায় বলে ইঁদুর এ ধান বেশি সংগ্রহ করে। পড়ে যাওয়া ধান ক্ষেতের আইলে ইঁদুর গর্ত তৈরি করে প্রচুর ধান জমিয়ে রাখে। আর ইঁদুরের গর্তের এই ধান সংগ্রহ করতে জেলার মাঠে মাঠে নিম্ন আয়ের কৃষক পরিবারের শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।

চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলায় ৫৩ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমান ধান চাষ হয়েছে। দেখা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে আমন ধানকেটে নেওয়ার পর ক্ষেতে পড়ে থাকা ধানের শিষ কুড়ানো ও ইঁদুরের গর্তে জমানো ধান সংগ্রহে নেমে পড়েছে শিশু-কিশোরেরা।

মহম্মদপুর উপজেলা সদরের গোপালনগর,পোয়াইল, রায়পুর ও জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা, লিয়াকত, রব্বানি, চাঁদ আলী, রমজান আরী, রহিমা খাতুন ও শরিফুলসহ অন্তত শতাধিক শিশু কিশোর সদরের কাতালাশুরির বিলে ধান কুড়ানো ও ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহে নেমে পড়েছে।

প্রতি বছর অন্তত দুই সহধিক শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ জেলার চারটি উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে ধান কুড়ানো ও ইঁদুরের গর্তে জমানো ধান সংগ্রহের কাজে নামে।এসব শিশুদের অনেকেই বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ওরা ধান সংগ্রহ করে পরিবারের ভূমিকা রাখছে। ওদের সংগৃহীত ধানে দুই থেকে ছয় মাসের খাবারের সংস্থান হয়।

শ্রীপুর সদরের লাঙ্গলবান্দ এলাকার লিয়াকত (৯), গোলাম রব্বানী (৭), জানায়, ‘ ধান কাটা শেষ হলি আমরা ধান খুঁটি (সংগ্রহ ) করি। ইঁন্দুরের গাড়ী (গর্ত) থেকে ধান বার করি। কোন গাড়ীতে ধান আছে আমরা দেখলি ঠিক পাই। ভাগ্য ভালো হলি এটটা গাড়ীতি দুই থেকে দশ কেজি পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়।’

শালিখা আড়পাড়ার কৃষক কবীর হোসেন জানান, আমন ধান কাটার পর দরিদ্র কৃষক পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এক যোগে ধান সংগ্রহে নেমে পড়ে। ধান পরিবহণের সময় প্রচুর ধান পড়ে যায়। এ ছাড়া ইঁদুর প্রচুর ধানের শিষ গর্তে জমিয়ে রাখে। এভাবে অনেক পরিবার দুই থেকে দশ মণ পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করে থাকে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ এলাকায় ধান কাটার পর দরিদ্র লোকজনের ধান কুড়ানো এবং ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে প্রতিবছর ইঁদুর নিধন অভিযান ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাদন অনেকাংশে কমে গেছে। এতে ইঁদুরের গর্তে আগের মতো বেশি ধান পাওয়া যায় না। তবে ইঁদুরের ধান সংগ্রহ কৃষকের জন্য ক্ষতি হলেও দরিদ্র লোকজনের জন্য অনেকটা ‘শাপে বর’।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: