মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে গড়াই নদী খনন কাজ চলছে। এ খনন কাজ সম্পন্ন হলে গড়াই নদী কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পাবে। এছাড়া জেলার অন্য নদী গুলোর পাড়, নদী সংলগ্ন খাল ও বিল সংস্কার এবং জলবদ্ধতা থেকে এসব এলাকার মানুষকে রক্ষার জন্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পে’র আওতায় ৮১ কোটি ২ লাখ টাকা প্রকল্প প্রস্তাব করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজান থেকে পানি প্রবাহ কমে যাওয়া, ফারাক্কা বাঁধসহ বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ, পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। নাব্যতা হারানোর কারণে এসব নদীগুলোর বিশাল এলাকা জুড়ে জেগে উঠেছে চর। জেলার চার উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর মধ্যে নবগঙ্গা ও ফটকির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। গুরুত্বপূর্ণ এ নদী দুটির সাথে জেলা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলা প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া নদী সংলগ্ন বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী খালের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম নির্ভরশীল। কিন্তু উভয় নদীর ব্যাপক এলাকা জুড়ে জেগে উঠেছে ছোট-বড় চর। এতে নৌ চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অনেক জায়গায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ এক সময়, বিশেষ করে নবগঙ্গা নদীতে বড় বড় স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলের মাধ্যমে মাগুরার সাথে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে নদী দুটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব একেবারে নেই বললেই চলে।
জেলার অপর তিনটি নদী গড়াই, কুমার ও চিত্রার অবস্থাও প্রায় একই রকম। গড়াই নদীর অনেক এলাকা জুড়েই জেগে উঠছে চর। এই নদী জেলার শ্রীপুর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে আসছে। বর্তমানে নদীর পানি এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, অনেক স্থানে হেঁটেই পার হওয়া যায়।
মূলত: গড়াই নদীটি জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় এসে মধুমতি নাম ধারণ করেছে। চিত্রা নদী জেলার শালিখা উপজেলা ও যশোর জেলার বাঘারপাড়া এলাকার মধ্যে দিয়ে নড়াইলে এসে পড়েছে। জেলার সংযোগ রক্ষাকারী এই নদী এখন পুরোটাই মরে গেছে। অধিকাংশ জায়গায় যেমন পানির গভীরতা কমে গেছে, তেমনি প্রসারতা নেই বললেই চলে। অথচ এই নদীর উজানে ফটকির সাথে যুক্ত হয়ে বেগবতী ও নবগঙ্গা হয়ে বংলাদেশ সীমান্তের চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা এলাকা দিয়ে সরাসরি ভারতের গঙ্গা নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে।
জেলার অপর নদী কুমারের বুক জুড়ে মাইলের পর মাইল চর জেগে উঠেছে। এ নদীও এক সময় খরস্রোতা ছিল, কিন্ত বর্তমানে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, মাগুরার শুকিয়ে যাওয়া এসব নদীতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে নদী উপচে তলিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চল। পানি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় নদী ভাঙ্গন। ফলে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলকার ফসলী মাঠ ঘর বাড়িসহ বিভিন্ন অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক বলেন, পরিবর্তীত জলবায়ুর কারণে পলি পড়ে আমাদের দেশের ছোট-ছোট নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ধরে রাখতে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে জীববৈচিত্র, প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং পরিবেশ রক্ষার পাশপাশি কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম চালানো ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

