মাগুরানিউজ.কমঃ
রামপদ ও স্বরস্বতি রানীর ৫ সদস্যের পরিবারে অর্ধাহারে অনাহারে কাটত দিন। অভাবের সংসারে নুন আনতে ফুরাতো পানতা। ১৫ বছর আগে ২৬শ’ টাকা পুঁজি নিয়ে মাগুরা নতুন বাজারে একটি ভাড়া বাড়ীতেই গড়ে তোলেন কাগজের তৈরী ক্ষুদ্র ঠোঙা শিল্প। কৃষ্ণপদ ও স্ত্রী স্বরস্বতি রানী এবং পুত্র ও কন্যারা করতো ঠোঙা তৈরীর কাজ। আজ কৃষপদ’র পরিবারে ঠোঙা তৈরী করে ফিরেছে সুদীন। অসুস্থ্য স্বামীর সংসারে স্ত্রী স্বরস্বতী রানী ধরেছেন পরিবারের হাল। পুত্র ও দুই কন্যাকে করেছেন সুশিক্ষিত। কৃষ্ণপদর তৈরী ঠোঙা এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলা শহরে। সুখে শান্তিতে তাদের কাটছে দিন।
মাগুরা নতুন বাজারে একটি ভাড়া বাড়ীতে স্বল্প পুঁজি নিয়ে কাগজের তৈরী ঠোঙা শিল্প গড়ে তুলেছেন কৃষ্ণপদ। ছোট কাঠ, হার্ড বোর্ড, আঠা ও প্রিন্ট করা রং বে-রংয়ের কাগজ দিয়ে ঠোঙা লিল্পীরা তৈরী করছেন সুদৃশ্য ঠোঙা ও কাঠুন। আশে পাশের অর্ধশত নারী-পুরুষ শ্রমিকরা কৃষ্ণপদের বাড়ীর কারখানায় করছেন কাগজের কাটুন (ঠোঙা) তৈরীর কাজ। হোটেল, রেস্তোরা সহ বিবাহ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অতিথি আপ্যায়নে ও মুখরোচক খাদ্য পরিবেশনে ব্যাবহার করা হয় কম মূল্যের ভালমানের কাগজের কাঠুন। কাঠুন বিক্রি করে কৃঞ্চপদ সহ অর্ধশত পরিবারে ফিরেছে সুদীন।
কন্যা শিউলি করতো ঠোঙা তৈরীর কাজ। আজ লেখাপড়া করে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করছেন। দ্বিতীয় কন্যা শিখা মাস্টার্সে পড়ছেন। টোঙা তৈরী করে বছরে থেকে তিন লাখ টাকা উপার্যন করেন কৃষ্ণপদর পরিবার। এলাকায় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন কৃঞ্চ। তার দাবী সরকারি পৃষ্টপোষতা পেলে দেশ ছাড়িয়ে বাহিরে রপ্তানি করতে পারবে ভালমানের কাগজের ঠোঙা। বাড়বে বৈদেশিক আয়। উপকৃত হবে এলাকার অনেক বেকার মানুষ।
বাবাকে হারিয়ে মাকে নিয়ে ৪ সদস্যের অভাবের সংসারে ঠোঙা তৈরী করে হাল ধরেছেন শিবরামপুরের মন্টু মিয়ার কিশোরী কন্যা-শারমিন খাতুন তিনি বলেন, কোনো কাজ না পেয়ে বসে না থেকে ঠোঙা তৈরী করে সংসার চলছে খুঁড়িযে খুঁড়িয়ে। মা করেন বাসা বাড়ীতে কাজ। তবে আগের চেয়ে ভাল আছেন পরিবারের সদস্যদের।
স্বামী হারা গৃহবধু করিমন বেগম বলেন, ১২ বছর আগে হারিয়েছি স্বামীকে। ৩ সদস্যের পরিবারে কাগজের ঠোঙা তৈরী কর্ইে চলছে সংসার। ১ হাজার ঠোঙা তৈরী করে পান দেড় থেকে ২শ’ টাকা এতেই চলে তাদের সংসার।
হোটেলের মালিকরা বলেন, মাগুরাতে তৈরী কম দামের ভাল মানের ঠোঙা পাচ্ছেন তারা।


