ঋণ খেলাপি অথবা নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে গ্রাহকরা চিন্তিত হওয়ার গল্প শোনা গেছে। কিস্তির পরিমাণ বেশি হলে সদস্যদের আড়ালে-আবডালে থাকার কথাও শোনাগেছে। এনজিও কর্মীরা খেলাপিদের বাড়ির গরু-ছাগল ধরে আনার খবর পত্রিকায় দেখাগেছে। এবার সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা ঘটছে মাগুরার মহম্মদপুরে।
■ তোপের মুখে সংস্থার ৪০ কর্মী ■ মাঠ কর্মীর গরু নিয়ে গেছে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা
■ সংস্থার দলিল জব্দসহ সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ ও ধান কাটতে বাঁধা
■ জলে যাবার উপক্রম ৮ হাজার গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা
উপজেলা সদরের কলেজ রোডে অবস্থিত এহসান সোসাইটি নামে বেসরকারি সংস্থার এক মাঠ কর্মীর বাড়ি থেকে মঙ্গলবার সকালে তিনটি গরু খুলে নিয়ে গেছে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এদিন সকালে সংস্থার মাঠ কর্মী ও উপজেলার লাহুড়িয়াপাড়ার মৃত: আদম ফকিরের ছেলে লালমিয়া ফকিরের বাড়ি ঘেরাও করেন শতাধিক ক্ষুব্ধ সদস্য। প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম রেজা জানান, গ্রাহকরা টাকা ফেরতের জন্য চিৎকার চেচামেচি করেন এবং এক পর্যায়ে তারা লালমিয়া ফকিরের তিনটি গরু খুলে নিয়ে যায়। আরেক কর্মী মুরাইল গ্রামের সালাম মুন্সীর ছেলে আবু জাফর ক্ষেতের ধান কাটতে গিয়ে গ্রাহকদের বাধার মুখে কাটতে পারেননি বলে জানাগেছে। সদরের ব্যাপারিপাড়া এলাকার ইউনুস বিশ্বাস নামের এক কর্মীকে চড়াও করেন সদস্যরা। আড়াইশ’ টাকা মূল্যের সাদা স্টাম্পে তার স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে সদস্যরা। শুধু লালমিয়া ফকির, আবু জাফর ও ইউনসু বিশ্বাসই নন- গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়েছে এহসান সোসাইটি নামে বেসরকারি সংস্থার ৪০ মাঠকর্মী। গ্রাহকদের হাতে নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কায় আত্মগোপন করেছেন ম্যানেজার আনোয়ারুজ্জামান ও অফিস সহকারি কাম হিসাব রক্ষক মনির হোসেন।
কর্মকর্তারা ৮ হাজার সদস্যের প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন- এ সংক্রান্ত খবর গত সোমবার ডিফারেন্ট নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর সংস্থার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে পিয়ন ইমামুলও পালিয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর সংস্থায় মোটা অংকের অর্থ লগ্নিকারি সদস্যরা এক কর্মকর্তা ও কয়েক মাঠ কর্মীকে খুঁজে বের টাকা ফেরত চান। গ্রাহকদের তোপের মুখে কর্মকর্তারা সংস্থার উপজেলা শাখার ক্রয়কৃত অবকাঠামো ও জমি বিক্রি করে অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, সোমবার সকালে ভূক্তভোগি গ্রাহকরা এহসান সোসাইটির উপজেলা শাখার জিম্মাদার ক্বারী আ: শুকুর, মাঠকর্মী ইউনুস বিশ্বাস ও বশির আহম্মেদসহ কয়েক জনকে পাকড়াও করেন। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের তোপের মুখে সংস্থার লোকজন মহম্মদপুর বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ মো: আবুল হোসেনে মোল্যার জাঙ্গালিয়াস্থ বাড়িতে যেতে বাধ্য হন। সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে এহসান সোসাইটর কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা তাদের অফিস ও জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় জমির দলিলপত্র বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখা হয়।
সুত্র জানায়, ৪০ জন মাঠকর্মীর মাধ্যমে উপজেলার হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু গ্রাহকরা এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেননা। সংস্থার অবকাঠামো ও জমি বিক্রি করে এক কোটি টাকাও হবেনা। তাহলে গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার পরিশোধ করবে কীভাবে? এ প্রশ্ন ভূক্তভোগি গ্রাহকদের। বেশ কয়েক দিন ধরে পলাতক রয়েছেন সংস্থার ম্যানেজার মো: আনোয়ারুজ্জামান। হিসাব রক্ষকও অফিসে আসেননা। সোমবার দুপুরের পর থেকে সংস্থার উপজেলা শাখার জিম্মাদার ক্বারী আ: শুকুরও লাপাত্তা। তালা পড়েছে প্রধান ফটকে। এ প্রেক্ষিতে লগ্নিকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাটের আশঙ্কা করছেন সদস্যরা। এ অবস্থায় একদিকে যেমন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে এহসান সোসাইটি; অন্যদিকে জলে যাবার উপক্রম হয়েছে ৮ হাজার গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা।


