মাগুরানিউজ.কমঃ
নদী বিধৌত মধুমতি ও নবগঙ্গা পরিবেষ্টিত মহম্মদপুর। মাগুরা জেলার একটি উপজেলা এটি। আড়াই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দারিদ্রপীড়িত ওই উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র একজন ডাক্তার। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া- সরকারের কমিটমেন্ট থাকলেও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার চিত্র উল্টো। বিভিন্ন কারণে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার বেহালদশা। নানা সঙ্কট আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী। ফলে সরকারি ঘোষণা বার বার উপেক্ষিত হচ্ছে মহম্মদপুরে।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেলক্সেকে ৩১ শয্যা থেকে ৫১ শর্যায় উন্নীতকরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবাসিক অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও; উন্নয়ন ঘটছে না স্বাস্থ্যসেবার। বাইরে থেকে এর অবস্থা সুন্দর মনে হলেও ভেতরের অবস্থা মোটেও সুন্দর নয়। ফলে অনেক ক্ষেতেই রোগীদেরকে জেলা শহরের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে হয়। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি রোগীদের কাছে নামেই তালপুকুর হয়ে উটেছে।
সূত্রমতে-উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের ১৭টি পদের স্থলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেবার জন্য শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। কিন্তু ডাক্তার সঙ্কটের কারণে ঠিকমত সেবাদানে হিমশিম খেতে হয় ডাক্তারের। একজন ডাক্তারের পক্ষে শতাধিক রোগীর ট্রিটমেন্ট দেয়া সঙ্গত কারণে দায়সারা গোছেরই হয়ে থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবস্থা এ ক্ষেত্রে আরো শোচনীয়। চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি, ওষুধ সঙ্কট সেইসাথে নেই আর নেই বলেই নিস্কৃতি নিচ্ছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়- তৃতীয় শ্রেণীর ৯২টি পদের স্থলে কর্মরত রয়েছেন ৫৬ জন। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর ২২টি পদের স্থলে ১১, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীর ৩৯টির মধ্যে ১৮ এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৮টির স্থলে ৩ জন কর্মরত রয়েছেন। ওই স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অসহায় হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ভেঙে পড়েছে উপজেলার চিকিৎসা কার্যক্রম।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুকুল কৃষ্ণ বিশ্বাস চিকিৎসা সেবার দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন- ডাক্তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখেও কোন প্রতীকার পাওয়া যায় নি।

