সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটিতে তিন ধরনের পেনশন স্কিমের কথা উল্লেখ আছে। যার সবগুলোই জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে বাস্তাবায়ন করা হবে।
এর একটি হলো প্রাইভেট সেক্টর পেনশন প্রোগ্রাম। বেসরকারি খাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মরতদের আর্থিক সুবিধার কথা চিন্তা করেই এ স্কিমের প্রস্তাব করা হচ্ছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্কিমটির অধীনে কর্মী এবং মালিক উভয়কেই প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জাতীয় সামাজিক বিমা তহবিলে জমা দিতে হবে। চাকরি থেকে অবসরের পর এই তহবিল থেকে ওই কর্মীকে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেনশন হিসেবে দেয়া হবে। এজন্য অবশ্য কমপক্ষে দশ বছর তহবিলে টাকা জমা দিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ইআরডিএ) এ তহবিল পরিচালনা করবে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সাথে পরামর্শ করে ইআরডিএ জমার পরিমাণ নির্ধারণ করে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে।
প্রস্তাবের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলেও এটি সংসদে পাস হতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী ২০৩২ সাল নাগাদ এ স্কিমের আওতায় প্রথম ব্যক্তি পেনশন পেতে পারেন।
বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন। এ ব্যাপারে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম বলেন, এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। আমি আশা করি, বেসরকারি উদ্যোক্তারা নিজেরাই এ কাজে এগিয়ে আসবেন।
প্রস্তাবের দ্বিতীয় স্কিমটি হলো ভলান্টারি পেনশন। বেসরকারি খাতে কর্মরত নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরা ছাড়াও অন্যান্যরা এ পেনশন সুবিধা পাবেন। এজন্য আগ্রহী ব্যক্তিকে স্বউদ্যোগে প্রতিমাসে অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর টাকা জমা দিতে হবে।
এ পেনশন স্কিম কিভাবে চালু করা যায়, তা জানতে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে আগামী ডিসেম্বরে একটি গবেষণা পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রস্তাবে গরিব বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্যও সিটিজেন পেনশন স্কিম নামে একটি আলাদা পেনশন স্কিমের কথা বলা হয়েছে। এর অধীনে ৯০ বা তদুর্ধ্ব ব্যক্তিকে মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৬০ থেকে ৯০ বছর বয়সীদের মাসিক ৮০০ টাকা ভাতা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে শুরু করা হলে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দেশের সব বয়ঃজ্যেষ্ঠদের এ প্রকল্পের আওতায় আনা যাবে বলে উল্লেখ রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে।
জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহাবুব আহমেদ বলেন, ‘বেসরকারি খাতে বিপুল সংখ্যক লোক চাকরি করে। তাদের পেনশনের বিষয়টি অনেক আগ থেকেই আমরা ভাবছি। তবে এটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চূড়ান্তভাবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে।’
এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. শফিকুল আজম বলেন, ‘বেসরকারি খাতে পেনশন চালুর প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের বিষয় আছে। এছাড়া এটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হবে নাকি আইনের মাধ্যমে হবে সেটা সিদ্ধান্তের বিষয় আছে।’বিডিনিউজ।


