মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুরে এহসান সোসাইটি নামে বেসরকারি সংস্থার সাড়ে ৩ হাজার টাকা পুঁজির বিপরীতে দেনার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে খোঁজখবর নিয়ে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে পড়ে গেছে হাহাকার। মূলধন হারাতে বসেছেন ৮ হাজার গ্রাহক এবং তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার হদিস মিলছেনা।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ গেলো কোথায় এ প্রশ্নের উত্তরও মিলছেনা সংশ্লিষ্ট কারো কাছ থেকে। ফলে এহসান সোসাইটির গ্রাহকদের নগদ পুঁজি খোয়া যেতে বসেছে। মাথায় হাত উঠেছে লগ্নিকৃত গ্রাহকদের। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন গ্রাহকরা।ভূক্তভোগি সদস্যদের হাতে পাকড়াও এবং নাজেহাল হওয়ার ভয়ে সংস্থার কর্মকর্তা ও অধিকাংশ মাঠ কর্মীরা পালিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ৮ হাজার গ্রাহকের ১০ কোটি টাকার বিপরীতে সংস্থার ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ মাত্র ৩ হাজার ৬০০ টাকা। সোনালী ব্যাংক লি. মহম্মদপুর শাখায় এহসান সোসাইটি উপজেলা শাখার জিম্মাদার ক্বারী আ: শুকুর ও ম্যানেজার মো: আনোয়ারুজ্জামানের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত সংস্থার চলতি হিসাব নম্বর ৮৯৯। ওই হিসাবে গত ৬ মাস ধরে লেনদেন করা হয়না বলে সুত্র জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলা সদরের ব্যাপারিপাড়ার হামু বিশ্বাস ৩ লাখ ৮০ হাজার, রাজ্জাক বিশ্বাস ৩ লাখ ৬৫ হাজার, ফারুক বিশ্বাস ২ লাখ ৮০ হাজার, আনোয়ার হোসেন ২ লাখ, সোহরাব বিশ্বাস ২ লাখ, সোহাগ বিশ্বাস ১ লাখ ৯২ হাজার, সেলিম বিশ্বাস ১ লাখ ৮০ হাজার, বাবলু বিশ্বাস ১ লাখ ৫০ হাজার; বসুর ধলজুড়ী গ্রামের ফরিদা পারভীন ১ লাখ ৫৫০০, জাঙ্গালিয়া গ্রামের ফরিদুল ইসলাম ৫ লাখ, উপজেলা সদরের মহিদুল ইসলাম ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা লগ্নি করেন এহসান সোসাইটিতে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে লাভের দেখাতো দূরের কথা মূলধনও হারাতে বসেছেন তারা।
এ বিষয়ে এহসান সোসাইটির উপজেলা শাখার জিম্মাদার ক্বারী আ: শুকুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংস্থার সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিক্রির অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের কিছু কিছু টাকা শোধ করা হবে বলেও তিনি জানান।


