মাগুরানিউজ.কমঃ
আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ও হরতাল অবরোধের কারণে মাগুরায় কমতির দিকে রয়েছে তুলার দাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রতি মণ তুলা ৬০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নিম্নমুখী দরে লোকসানের আশঙ্কা করছেন জেলার তুলাচাষীরা।
জেলা তুলা উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে জেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়। উৎপাদনের পাশাপাশি দামও ছিল ভালো। লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে পণ্যটির আবাদ বেড়েছে। এবার জেলার চার উপজেলায় ৭৬৫ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে ৩০ হাজার মণ তুলা। গত বছরের এ সময়ে বাজারে প্রতি মণ তুলার দাম ছিল ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আর এখন একই পরিমাণ পণ্য বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়। অর্থাৎ একই সময়ের ব্যবধানে মণপ্রতি তুলা ৬০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।
মাগুরা সদর উপজেলা নিজনান্দুয়ালী গ্রামের তুলাচাষী আবুল হোসেন। তিনি এবার আড়াই একর জমিতে তুলা চাষ করেছেন। চাষকৃত জমি থেকে ১০০ মণ তুলা পাওয়ার আশা করছেন। একরপ্রতি জমিতে তুলা চাষে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। দাম কমে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভের আশা ছেড়ে লোকসানের হাত থেকে বাঁচার চিন্তা করছেন।
শ্রীপুর উপজেলা টুপিপাড়া গ্রামের কৃষক সাহা সরজিৎ কুমার এক একর জমিতে তুলা চাষ করেছেন। গত বছর তুলা বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় এবার আবাদ বাড়িয়েছেন। বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচ উঠাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। তুলার মূল্যবৃদ্ধির জন্য তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। দাম না বাড়লে আগামীতে অন্য পণ্য আবাদ করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তুলা মিল মালিক সমিতি বাংলাদেশ জিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাজি গোলাম সাবের জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে পণ্যটির দাম কমেছে। পাশাপাশি হরতাল অবরোধ একটি কারণ। তিনি আরো জানান, দেশে মোট ১৫টি তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ (জিনিং) মিল রয়েছে। এসব মিলে প্রতি বছর মোট ৫৫ লাখ বেল তুলা দরকার হয়। দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ১ লাখ বেল। অধিকাংশ তুলা আমদানি করতে হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ বছর তুলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিগগিরই পণ্যটির দাম বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ইউনিট অফিসার আবু সাঈদ মিয়া জানান, তুলা উৎপাদনের জন্য কৃষকদের জমি তৈরি, বীজ রোপণ থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হবেন। ফলে আগামীতে জেলায় তুলা চাষ হ্রাস পেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।


