“গুড়ের গন্ধে মাতোয়ারা সকাল”, মাগুরাবাসী এই সুযোগে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যান

মাগুরানিউজ.কমঃ 

10917867_772053992875011_7201155331219323557_n

রস জ্বালা হাঁড়িতে ঢালার পর আমরা ভিড় করতাম বাইনের আশেপাশে। শুধু গুড় হবার অপেক্ষায় নয়। তাঁত রসের লোভেও। কখনো কখনো সকালের নাস্তাটাও সারতাম বাইনের পাড়ে। খাওয়া-শীত তাড়নো-তাঁত রসের অপেক্ষা। তিনকর্ম একসাথে।

10933743_772057349541342_7391632691784547985_n

শীতের ভয়ে এখন সকালে ঘর ছেড়ে বেরোতেই মন চায় না। অথচ শীতের সকালের সৌন্দর্যের তুলনাই হয় না। সাধারণত এসময়ে পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত। পড়াশোনা আর স্কুলের ভূত ঘাড়ে চেপে বসা তো দূরে কথা, ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে সাহস পেত না। তখন দিন গুণতাম, আশায় থাকতাম, কবে নানাবাড়ির পথ ধরব। কারণ শীতের তাতরস আর গরম গুড়ের লোভ।

10170970_772054039541673_7352147150073112410_n

আমাদের গ্রামে অবশ্য রস-গুড়ের চল ছিল না বললেই চলে। কিন্তু আমার নানা বাড়িতে– রস-গুড়ই তাদের প্রধান চাষাবাদ। তাই হেমন্তের মিষ্টি রোদ শরীরে আলতো ছোঁয়া দিতে শুরু করলেই দিন গুনতাম– কবে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হবে আর কখন নানাবাড়িতে ছুট দেব। গরু কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে করে নানাবড়িতে যাওয়াও ছিল অ্যাডভেঞ্চারের মতো। কত মাঠ কত গ্রাম পেছনে ফেলে ক্যাঁচর ম্যাচর শব্দ করতে করতে এগিয়ে চলত আমাদের ছৈঅলা গরুর গাড়ি। সন্ধ্যা ঘনাবার আগে পৌঁছে যেতাম নানাবাড়ি। ঘোর লাগার আগেই বেরিয়ে পড়তাম মামাদের সাথে সন্ধ্যার রস খেতে মাঠে। রাত পেরিয়ে সকাল হলেই ঘুম ভেঙে যেত। বিশাল খেজুর বাগান মামাদের। দুই গাছির পক্ষে অত রস আনা সম্ভব নয়। মামারাও যেতে ওদের সাহায্য করতে। আমরা পাহারা দিতাম কখন তাঁরা ফিরবেন।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: