মাগুরানিউজ.কমঃ
হঠাৎ করেই যেন কোমল হয়ে উঠেছে বাংলার মানষ প্রকৃতি। স্নীগ্ধতা আর মোহনিয়তায় ভরপুর অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা কিংবা রাজপথ। সবার চোখে মুখে অচেনা এক প্রশান্তির স্পষ্ট ছাপ! বিরাট একটা পরিবর্তন এসেছে যেন এদেশের মানুষের অনুভুতিতে। কখনো গৌরবে শক্ত হয়ে যাচ্ছে শীরদাড়া আবার কখনো বা আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠছে দুচোখ। ফুটপথে হেটে চলা মানুষের ভিড়, রাস্তার মোড়, সুপার মার্কেট, রেস্তোঁরা, বাজার, চায়ের দোকান, রেল লাইনের ধারে জটলা, বাসস্ট্যান্ড, ফেসবুক, টুইটার কিংবা ব্লগ সহ চারিদিকে ১৬ কোটি বাঙালীর উৎসব মুখরতা দেখে নির্দিধায় যে কেউ বলবে জাতি হিসেবে আমরাই সবচেয়ে সুখি। রাজনীতি, অর্থনীতি কিংবা ধর্মীয় আলোচনাকে ছাপিয়ে সবার উপরে আলোচনার যে কেন্দ্রবিন্দু সেটা হলো ‘অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠা টাইগারদের কাব্যগাঁথা সাফল্য”।
পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশের পরও মুখ বন্ধ করা যায়নি সমালোচকদের! ”সিনিয়র খেলোয়ারদের অনুপুস্থিতি, ভঙ্গুর শক্তির দল, ৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর হয়না পাকিস্তানে’ এছাড়া নানা খোঁড়া অযুহাত দেখিয়ে টাইগারদের অর্জনকে বড় করে দেখার কিছু নেই এমনটাই স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে অনেকে। “আসল পরিক্ষা দিতে হবে ভারতের সাথে।” সে পরিক্ষায় ভালভাবেই উতরে গেছে বাংলাদেশ। তবে এ প্লাস নাকি গোল্ডেন এ প্লাস পেল টাইগাররা, সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২৪ জুন পর্যন্ত।
২৪ তারিখে মাঠে যাই হোকনা কেন, এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সেরা ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে চড়ে বসেছে টাইগাররা। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ১৯৯২ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ৭ নং আসনটির দখলে বাংলাদেশ। এই সিরিজেই ইংল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু সাম্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ডকে ৩-২ সিরিজ হারিয়ে ৯৪ পয়েন্ট থেকে ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৯৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৬ -ই থাকছে ইংলিশরা। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৯৩। ভারতের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি জিতলে পয়েন্ট দাঁড়াবে ৯৫। সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডকে টপকাতে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষেও সিরিজ জিততে হবে আমাদের।
দক্ষিন আফ্রিকাকে নিয়ে আলোচানার ঢের সময় পড়ে আছে। ভারতের বিপক্ষে যে কির্তি গড়লো বাংলাদেশ তাতেই ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিজ যোগ্যতায় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে এক সময়কার পরাক্রমশালী পাকিস্তান অথবা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে! ৮৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৮ এ ওয়স্ট ইন্ডিজ আর ৮৭ রেটিং পয়েন্ট পাওয়া পাকিস্তান আছে ৯ এ।
মাশরাফির নেতৃত্বে ছুটে চলেছে সাফল্যের রেলগাড়ি। রেলস্টেশন হিসেবে বিশ্বকাপকেই নির্ধারন করা হোক এমনটাই চাইবে এদেশ, এদেশের প্রতিটি বোধশক্তি। আর সেই স্টেশনে পৌছাতে আরো দুটি সাব স্টেশন পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। একটি ২০১৬ সালে ভারতে শুরু হতে যাওয়া টি-২০ ওয়ার্ল্ডকাপ এবং ২০১৭ এর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে আরো গৌরাবন্বীত করুক টাইগাররা। বাস্তবতার ছায়াপথে স্বপ্নবিলাস ডানা মেলে উড়ে যাক, সন্ধা নয়, দিনের আলোতেই খুঁজে পাক গন্তব্য নীড়। ক্রিকেটের আলোয় আলোকিত হোক বাংলার প্রকৃতি ও আকাশ। ক্রিকেটই হোক এদেশের মানুষের জ্যোৎস্নালোকিত নব্য রজনি।


