মাগুরানিউজ.কমঃ
ভাগ্য বদলাতে সর্বস্ব বিক্রি করে মাগুরার ১০ যুবক আড়াই লাখ করে দালালের হাতে তুলে দিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন বছর খানেক আগে। তারপর থেকেই তারা এখনো নিখোঁজ।
তাদের খোঁজ না পেয়ে স্বর্বস্বহারা পরিবারগুলোর এখন দিশেহারা অবস্থা। সংসারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে অনেক স্ত্রী এখন পেটের দায়ে সন্তানকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অনেকে দালালের কাছে গিয়েছিলেন স্বজনের খোঁজে। কিন্তু দালালের হাতে তাদের লাঞ্ছিতও হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে কাউকে কাউকে হত্যারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ ওই ১০ যুবক হলেন সদর উপজেলার ডেফুলিয়া গ্রামের ইমরান শেখ (২০), শাহীন হোসেন (২০) ও ইমরান মোল্যা (২৩)।শালিখা উপজেলার জুনারী গ্রামের ফখর আলীর ছেলে টিটুল সরদার (১৮), ভাতিজা শরাফত হোসেন (২৫), শ্যালক ইসলাম আলী, হাজরাহাটি গ্রামের শুকুর আলী, দিঘি গ্রামের ইকরাম হোসেন (৪৮), আল আমীন (১৮) ও দিঘল গ্রামের নান্নু মিয়া (৩৫)।
এ বিষয়ে শরাফতের স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানান, তার স্বামী দেড় বছর আগে জুনারীর দালাল দোলন, নাজমুল ও রাজুকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন। তারপর থেকে তার কোনো খোঁজ মেলেনি। এখন তিন সন্তান নিয়ে তিনি পথে পথে ঘুরছেন বলে জানান।
আল আমীনের মা জরিনা বেগম জানান, দিঘি গ্রামের দালাল আজিজুল অনেকটা ফুসলিয়েই তার ছেলেকে নৌপথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। ছেলেকে খুঁজতে এ পর্য়ন্ত তিনি বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আরও দুই লাখ টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু একমাত্র ছেলের কোনো খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজ ইকরাম হোসেনের ছেলে সোহেল জানান, তার বাবাকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা বলে আজিজুল ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে ১৬ মাস আগে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। তারপর থেকে তার বাবা নিখোঁজ।
তারা একাধিকবার আজিজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সে প্রথমে নানা কথা বলে ঘুরিয়েছে। পরে ঢাকার উত্তরার একটি বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যার তাকে হুমকি দিয়েছে। বর্তমানে তার ফোন বন্ধ এবং সে পলাতক।
সোহেল জানান, কিছুদিন আগে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে তার বাবা সাজিয়ে আজিজুল ফোন দিয়ে বাড়িতে তার মুক্তি বাবদ আরও এক লাখ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু ফোনে ওই ব্যক্তিকে চিনে ফেলায় সে ফোন কেটে দেয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. নাকিব হাসান তরফদার জানান, প্রশাসনিকভাকে নিখোঁজদের বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মাগুরার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, মানব পাচারকারী সন্দেহে রবিউল ওরফে রানা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ চেষ্টা করছে গোটা চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে।



