মাগুরানিউজ.কমঃ
সাঈদ আজমলের অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের নেতা হবেন কে? কেন, সাত ফুটি এক দৈত্য আছে না পাকিস্তানের! বিশ্বকাপ মহাযজ্ঞে ঝড় তুলতে প্রস্তুত মোহাম্মদ ইরফান। নিজের সাত ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে ত্রাস ছড়াতে চান ৩২ বছর বয়সী এই পেসার।
দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে নিজের ছাপ রেখে যেতে চান ইরফান। মাঠের বাইরেও হয়তো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের দীর্ঘকায় খেলোয়াড় বলে কথা! বছরদুয়েক আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় সমর্থকদের কাছে ইরফান ছিলেন হটকেক।
সবার চাওয়া একটাই- সাত ফুটি দৈত্যের সঙ্গে ছবি তোলা চাই! অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও ভক্তদের এই মধুর অত্যাচার সইতে হবে তাকে। তাতে আপত্তি না থাকলেও ইরফানের পুরো মনোযোগ থাকবে ক্রিকেটেই, ‘আমি জানি উচ্চতার জন্য সবার নজর থাকবে আমার ওপর। ছবি তুলতে চাইলে আমি সাধারণত কাউকে হতাশ করি না। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও ভক্তদের সঙ্গে পোজ দিতে আমি প্রস্তুত থাকব, কিন্তু মনোযোগ থাকবে ক্রিকেটেই। বিশ্বকাপ না জেতা পর্যন্ত বোলিংই হবে আমার ধ্যান-জ্ঞান।’
উচ্চতার জন্য তাকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়িটা বেশ উপভোগই করেন ইরফান, ‘আমার এটা মজাই লাগে। আমার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের উচ্চতা পরখ করে নিতে চায় সবাই!’ ভক্তদের সঙ্গে হাসিমুখে পোজ দিলেও বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের হাসি কেড়ে নেয়াই তার লক্ষ্য। শৈশবের আদর্শ ওয়াসিম আকরামের মতো পাকিস্তানের বিশ্বকাপ হিরো হতে চান ইরফান, ‘বিশ্বকাপ অনেক বড় টুর্নামেন্ট। এখানে খেলা সবারই স্বপ্ন। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জন্য ওয়াসিম আকরাম যা করেছিলেন, এবার আমি ঠিক সেটাই করতে চাই। নিজের ছাপ রেখে যেতে চাই বিশ্বকাপে।’
আজমলের অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের বাজির ঘোড়া এখন ইরফান, ‘সাঈদ আজমলের অনুপস্থিতি আমাদের বোলিংকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, নিজের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের জন্য এক্স-ফ্যাক্টর হতে পারে ইরফান। তার ওপর আস্থা আছে আমার।’ অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে উদগ্রীব ইরফানও, ‘আমি আমার শক্তির জায়গাটা জানি। সেটা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের জন্য এমন কিছু করতে চাই, যাতে অবসরের পরও মানুষ আমাকে মনে রাখে।’
বাউন্সি উইকেটে প্রায় আকাশ থেকে ধেয়ে আসা ইরফানের প্রতিটি ডেলিভারিই ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেবে। কিন্তু যে উচ্চতার জন্য আজ তিনি পাদপ্রদীপের আলোয়, শৈশবে সেটাই ছিল তার জন্য মূর্তিমান অভিশাপ। বাজারে তার মাপের জুতো পাওয়া যেত না, বাড়িতে সাধারণ খাটে শুতে পারতেন না। মুখ বুজে প্রতিবেশীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ হজম করতে হতো। ইরফান তখন সপ্তাহে মাত্র ৩০০ রুপি বেতনে একটি কারখানায় কাজ করতেন। ২০১০ সালে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরও রাতারাতি বদলে যায়নি তার জীবন। প্রথম দুই ওয়ানডেতে উইকেটহীন থাকার পর দু’বছরের জন্য জাতীয় দলের বাইরে চলে যান। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফরেই মূলত ইরফানের উত্থান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে দলে জায়গাটা পাকা করেন। মাঝে চোটের সঙ্গে লড়তে হলেও হার মানেননি ইরফান। বিবর্ণ শৈশব তাকে শিখিয়েছে, জিততে হলে লড়তে হবে। এএফপি।

