মাগুরানিউজ.কমঃ
মাত্র চারদিনে মধুখালী থেকে কামারখালীর গড়াই ব্রিজের পর মাগুরা অংশ পর্যন্ত কলকাতাগামী বাসসহ ১০টি যাত্রীবাহী পরিবহণে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতদের হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। ডাকাতরা লুটে নিয়েছে অর্ধকোটি টাকার মামলামাল। এ ডাকাতির ঘটনায় জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তাদের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় ব্যস্ত মহাসড়কে চলাচলকারী বাসের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে যাত্রা বাতিল করছেন।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা ও ফরিদপুরের অংশের ৫০ কিলোমিটার নিরাপত্তাহীন। সড়কের এই অংশে দূরপাল্লার বাসে ডাকাতি এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত মহাসড়কের মধুখালী-কামারখালী ও মাগুরা অংশে ছয়টি বাসে ডাকাতি হয়। গত শনিবার দিবাগত রাতে রায়পুর ইউনিয়নের ছুকরিকান্দি এলাকায় গাছ ফেলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি হয়। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মধুখালী সদর ইউনিয়নের পরীক্ষিতপুর এলাকায় আরেকটি বাস ডাকাতি হয়। গত রোববার দিবাগত রাত ৩টায় সোহাগ পরিবহণের বাসে ডাকাতি হয়।
ডাকাতের হামলায় আহত আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক যাত্রী হাসপাতালে শুয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন। সাতক্ষীরায় যাচ্ছিলেন। মধুখালী আসার পর রাস্তায় গাছ দেখে বাসটি থেমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে দুইপাশ থেকে গাড়ির দিকে ডাকাতেরা ঢিল ছোড়া শুরু করে। দরজা-জানালার কাচের ওপর কোপ দিচ্ছিল তারা। একপর্যায়ে তিন ডাকাত গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে এলোপাতাড়িভাবে যাত্রীদের কোপাতে শুরু করে। গাড়ির ভিতর নারী, বৃদ্ধসহ অন্তত ১০ যাত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সব যাত্রীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যায় তারা।আহত এসব যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোহাগ পরিবহণের সুপারভাইজার জিএম ফারুক হোসেন বলেন, রাত ৮টায় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। মধুখালী উপজেলার রেলস্টেশন থেকে কিছুটা এগিয়ে দেখেন সামনে গাছ ফেলে রাখা। এরপর চারপাশ থেকে ঢিল। দা দিয়ে বাসে কোপাচ্ছিল। বাধ্য হয়ে বাসের দরজা খুলে দিতে হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানান, মহাসড়কের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পৃথক হাইওয়ে পুলিশ রয়েছে। সড়কের মাগুরা অংশে রামনগর ও ফরিদপুর অংশে মধুখালীর করিমপুরে ফাঁড়ি রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জেলা পুলিশ নয়। তারা জেলা পুলিশের নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়।
সড়কের নিরাপত্তা দেওয়ার চেয়ে হাইওয়ে পুলিশ চাঁদাবজি নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মাগুরা অংশের রামনগরের হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিবহণ শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে। সড়কের প্রায় একই জায়গায় কয়েকদিন আগে কলকাতাগামী একটি বাসে আধা ঘণ্টা ধরে ডাকাতি হয়। এরপরও ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় দীর্ঘ এই সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এই এলাকাটি জঙ্গলের মতো। এতে সামনে শীত ও কুয়াশায় ডাকাতি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে চালকেরা আশঙ্কা করছেন।হঠাৎ করে গাছ ফেলে ডাকাতি করে চলে যায়। আবার অনেক সময় ঢাকা থেকেও যাত্রীবেশী ডাকাত আসে।
মাগুরায় বিভিন্ন পরিবহণের ব্যবস্থাপকরা বলেন, ‘মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে গণডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে নৈশপরিবহণে যাত্রী আশঙ্কাজনহারে কমে গেছে।’
মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মো. নুরুজ্জামান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
মাগুরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিহাদুল কবীর রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মহাসড়কের মাগুরা অংশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

