মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলার লিচু পল্লী হিসেবে খ্যাত সদর উপজেলার হাজরাপুর, মিঠাপুর, ইছাখাদা, খালিমপুর, হাজিপুরসহ ৩০ গ্রামে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চাষীরা লিচু বিক্রি করে ১০ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা অর্জন করবে বলে আশা চাষিদের। গত বছরের ক্ষতি এবার পুশিয়ে যাবে এমটাই আশা করছেন তারা।
প্রতি বছরই এখানকার চাষীরা লিচু বিক্রি করে লাভবান হয়ে থাকে। গত বছর বিরূপ আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের উদাসিনতায় এলাকার চাষীরা ফলন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
মাগুরা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দুরত্বে মাগুরা ঝিনাইদহ সড়কের ইছাখাদা পৌছলেই চোখে পড়ে রাস্তার দুপাশে সারি সারি লিচু বাগানে থরে থরে ধরে থাকা লিচুর এ মনোরম দৃশ্য। এ লিচু পল্লীতে দেড় হাজার লিচু বাগান রয়েছে। লিচু চাষে অনেক চাষীর ভাগ্য বদলে দিন দিন অন্যেরা উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসায় এলাকায় লিচুর চাষে বিপ্লব ঘটে।
মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, রাঘবদাইড়, হাজিপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর, ইছাখাদা, খালিমপুর, রাউতাড়া, মির্জাপুর, বামনপুর, আলমখালী, বীরপুর, বেরইল, লক্ষীপুর, আলাইপুর নড়িহাটিসহ ৩০ গ্রামের চাষীরা গত ২০ বছর ধরে বানিজ্যিক ভিত্তিতে লিচুর আবাদ করে আসছে।
মাগুরার চাষীরা বেদানা, মোজাফ্ফর, চায়না থ্রী ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ করে। যা ক্রেতাদের কাছে খুবই গ্রহনযোগ্য। আর এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা এখানকার লিচু আগে ভাগে কিনে অন্যত্র বিক্রি করে লাভবান হওযায় এলাকার লিচু জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রতি বছর ব্যাপারীরা লিচু কিনতে ভীড় জমায়। এলাকা হয়ে ওঠে জমজমাট। ট্রাক ট্রাক লিচু এখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যায় ব্যাপারিরা।
এবার লিচুর ফলন ভাল হওয়ায় আবার চাষীদের মুখে হাসি ফিরে এসেছে। তবে রাজনৈতিক কারণে এবার লিচু মেলা করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান লিচু মেলার আয়োজকরা। জনৈক লিচু চাষী জানান, তার বাগানে ৫০টি লিচু গাছের প্রতি গাছে ৪ হাজার করে লিচু উৎপাদন হয়েছে যা ৫লাখ টাকা বিক্রি হবে। লিচু চাষীরা জানান, বিগত বছরগুলোর মত এবারও ব্যাপক ভাবে লিচুর গাছে ফুল ও ফল ধরে। আবহাওয়া ভাল থাকায় কৃষি বিভাগের তেমন সহযোগীতা না পেলেও উৎপাদন ভাল হয়েছে। তবে বৃষ্টির অভাবে এবার লিচুর আকার ছোট হয়েছে। মাগুরার লিচু বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থান করে নিয়েছে। লিচুর চাষ লাভবান হওয়ায় দিন দিন মাগুরায় লিচুর চাষ বাড়ছে।


