মাগুরার ঘরে ঘরে কাগজের আসবাবপত্র

মাগুরানিউজ.কমঃ 

download (1)fhyt

অবসরে বাড়তি আয়ের জন্য বা পুরোদমে উপার্জনের জন্য ফেলে দেয়া পুরনো কাগজ দিয়ে তৈরি করতে পারেন আসবাবপত্র। এছাড়াও নিজের প্রয়োজনে বা সৌখিন সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব এই পুরনো কাগজ দিয়ে। এক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেশক্তিটাই বড় কথা।

এভাবেই কথাগুলো বললেন মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদার মনির খানের স্ত্রী নূরুন্নাহার।

অপর এক গৃহবধু সিমা বেগম বলেন, আমরা নিজেরাই নিজের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কাগজ দিয়ে তৈরি করি। যদি এই আসবাবপত্র বাজারে বিক্রি করা যায় তবে ঘরে বসেই পুরুষসহ নারীরা বাড়তি আয়ের উৎস খুঁজে পাবে।

বর্তমানে এখানকার অনেক পরিবার তাদের তৈরি পণ্য বিক্রি করে টাকা আয় করছে। আর এটা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ। গ্রামে প্রায় ৫০টি পরিবারের নারীরা ফেলে দেয়া পুরনো কাগজ দিয়ে তৈরি করছে বসার জন্য জলচৌকি, মোড়া, পিড়ি, ধামা, টুপি, ফুলদানি, ব্যাগ, বিভিন্ন ধরণের ফুলসহ নানারকম গ্রামীণ আসবাবপত্র ও সৌখিন সামগ্রী।

প্রথমে সখের বসে এ কাজ করলেও এখন অনেকেই মনে করে একটু সময় ব্যয় করলে কিছু বাড়তি টাকা উপার্জন সম্ভব। দিন দিন কাগজের তৈরি এসব আসবাবপত্র বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যে কারণে কোন কোন পরিবারের ৩/৪ জনও ব্যস্ত থাকে আসবাবপত্র ও সৌখিন সামগ্রী তৈরির কাজে।

download (1)rytrey

গৃহবধূ, তরুণী-কিশোরী এমনকি শিশুরাও গল্পে গল্পে কাজে হাত লাগায়। আলী ইমামের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, প্রথম প্রথম সখ করেই এসব আসবাবপত্র তৈরি করেছি। তবে এগুলো সংসারে অনেক কাজে লাগে। নিজে তৈরি করছি বলে প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে না। তাতে অন্তত আমাদের টাকা বেঁচে যাচ্ছে। তবে এইসব জিনিস বাজারজাত করতে পারলে অনেক ভাল হত।

আসবাবপত্র তৈরি করতে করতে মফিজা, নুরজাহান, কামিনীসহ একাধিক নারী জানান, একজন নারী ঘরে বসেই এই আসবাবপত্র তৈরি করতে পারবে। আর তা হতে পারে উপার্জনের মাধ্যম। প্রথমে পুরনো কাগজ একটি পাত্রের মধ্যে পানিতে ভিজিয়ে পরে তা গুলিয়ে মণ্ড করা হয়। মণ্ড রোদে শুকিয়ে তার সাথে ভাতের মাড় মিশাতে হবে। এরপর যে পন্যটি বানাবে সেই অনুযায়ী নরম মন্ড আস্তে আস্তে তার আকৃতিতে রূপ দিয়ে পণ্য তৈরি করা হয়। একটি মোড়া তৈরি করতে ৭/৮ দিন সময় লাগে। ভাল করে শুকাতে পারলে খুব শক্ত আসবাব তৈরি সম্ভব।

যেসব কাগজ রাস্তায় ফেলে দেয়া হয় সেগুলো কুড়িয়েই তৈরি করা হয় আসবাবপত্র। একটা মোড়া তৈরিতে কাগজের দরকার হয় ৩ থেকে ৪ কেজি, ছোট বসার চৌকি তৈরি করতে দুই থেকে তিন কেজি, ধামা তৈরিতে দেড় থেকে দুই কেজি কাগজের প্রয়োজন হয়। পানিতে না ভিজলে কাগজের তৈরি আসবাবপত্র দীর্ঘ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। গ্রামীণ হস্তশিল্পের এইসব সামগ্রী বিক্রি করলে অনেকেই আগ্রহী হবে কিনতে।

download (dgfds1)

মাগুরাজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে। এটি যেমন একদিকে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় শিল্প। অন্যদিকে এটি পরিবেশ বান্ধব। তাই এই শিল্প হতে পারে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

January ২০২৩
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

January ২০২৩
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
%d bloggers like this: