মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে সংখ্যালঘু পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ করেছে স্থানীয় পাটনি (ঘাটের মাঝি) সম্প্রদায়ের লোকজন। রোববার দুপুরে মাগুরার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে পুলিশ মাফুজুর রহমান নামে একজনকে আটক করেছে।
কালাচাঁদ বিশ্বাস নামে পাটনি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন- স্থানীয় প্রভাবশালী মাফুজুর রহমান বিশ্বাস ও তার লোকজন এ এলাকার পাটনি সম্প্রদায়ের পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য নানাভাবে হয়রানি নির্যাতন করে আসছে। প্রতিবেশি মাফুজ বিশ্বাস ও তার লোকজন গত দুই মাসে তাদের বাড়িতে চারবার আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া দরিদ্র এসব পাটনি সম্প্রদায়ের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথে বেড়া দিয়ে বাধাসৃষ্টি, তাদের বাড়ির ছাগল চুরি, মুরগি চুরি, বাড়ির বাইরে কাপড় শুকাতে দিলে সেগুলিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করাসহ বিভিন্ন সময়ে ভারতে চলে যাওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি গঙ্গারামপুর স্কুল মাঠে এক আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাটনিরা এ ঘটনা জানালে তার পরের দিনই ওই সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
নির্যাতন করে কৌশলে ভারতে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের বাড়িঘর দখলের জন্যই তারা এ ধরনের অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছেন বলে জানান তারা। সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুপুরে তাদের বসত ঘরের একটি অংশে আগুন দিলে সে ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। এ ব্যাপারে শালিখা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাগুরার সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন কুমার জানান- পাটনি সম্প্রদায়ের লোকজন পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। সে প্রেক্ষিতে মাগুরার ডিবি পুলিশ রোববার বিকেলে মাফুজুর রহমানকে আটক করেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার সহযোগিদেরও গ্রেফতার করা হবে। এ ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।


